7.6 C
New York

বখতিয়ারের বানরগুলো  | প্রথম আলো

Published:

আলো কমে যাওয়া বাল্বের জন্ডিস আলোয় ডাকাবুকো সাহসী বুলবুলিকে চেনা যাচ্ছে না, কী রুক্ষ আর মলিন হয়ে গেছে! ধীরে ধীরে তার মাথাটা বুকে নিয়ে একেবারে দ্বিধাহীনভাবে মেহজাবিনের সঙ্গে তার প্রেমকাহিনি রসালভাবে বয়ান করতে থাকে বখতিয়ার। কেনাকাটা করতে বড় বোন বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এত সব কথা শুনেও বুলবুলির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই যে! ঈর্ষা, যন্ত্রণা প্রকাশের বদলে বুলবুলি নিষ্প্রভ! 

বখতিয়ারের উল্টো ক্রোধ বেড়ে যায়। বুলবুলির মধ্যে সে তার প্রতি ঘৃণার দাউ দাউ আগুন জ্বালাতে আগের সব শারীরিক সম্পর্কের কথা জান্তব বর্ণনায় বয়ান করতে থাকে। পরমুহূর্তেই তার মনে হয়, আগের বখতিয়ার এসব কথা বুলবুলিকে এত বিকারহীনভাবে বলার কথা কল্পনা করতেও কি পারত? 

একসময় বুলবুলির মধ্যে প্রচণ্ড বেগে বমি ঠেলে ওঠে। এক হাতে মুখ চেপে অন্য হাতে ঠেলে বখতিয়ারকে ঘর থেকে বের করে দিতে গিয়ে তার পিঠের মধ্যে একটা লাত্থি মারে সে, হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, ‘কুত্তার বাচ্চা, দেখ আমি তোরে কী করি?’

হুমড়ি খেয়ে বাইরে পড়তেই বখতিয়ারের বানরগুলো চারপাশে তাকিয়ে তাকে যেন সোজা করে আঁচড়ে দেয়। সে যখন ফিনফিনে বাতাসে উড়তে উড়তে অনেক দূর চলে এসেছে, তাদের দুজনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিজান, যে নিজেও বুলবুলির প্রতি খুব দুর্বল, সে বখতিয়ারকে ফোন করে, ‘তুই নাকি বুলবুলিকে ছুরি দিয়া খুন করতে চাইছস?’

‘কী?’ বখতিয়ারের মাথায় গিট্টু লেগে যায়, ‘তোর মাথা খারাপ হইছে? ছুরি দিয়া? আমি?’ 

‘তুই এখন বুলবুলির কাছে যা, আমার কিছু ঠিক লাগতেছে না।’

বখতিয়ারের স্থবির পা কিছুক্ষণ রাস্তায় ঠেসে থাকে। পরে যখন মাথার কোষ সব আলগা হয়ে যাচ্ছে, সে ছুটে বুলবুলির দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর ভেতরের দৃশ্যের সঙ্গে ক্রমাগত নিজেকে গেঁথে ফেলে। 

Related articles

Recent articles

spot_img