5.6 C
New York

বইয়ের প্রচার কে করবেন, লেখক নাকি প্রকাশক

Published:

এক-দুটি ব্যতিক্রম বাদে আমাদের দেশে প্রকাশকদের মধ্যে এ ধরনের চর্চার ছিটেফোঁটাও নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা কেবল বই ছেপেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেন এবং বলেন যে ‘বই বিক্রি হয় না।’ তবে অন্যান্য দেশের গবেষণার সাপেক্ষে এ কথা বলা যায়, আমাদের এখানে অনেক প্রকাশকই জানেন না যে কার জন্য তিনি বইটি ছেপেছেন এবং কার কাছেই-বা বিক্রি করবেন।

উন্নত দেশের প্রকাশকেরা প্রচারের জন্য বইয়ের বিলবোর্ড, পোস্টার, স্যুভেনির, কমার্ক, কলম, ডায়েরি, বইয়ের প্রচ্ছদ-সংবলিত টি-শার্ট, মগ ইত্যাদি তৈরি করেন। বইয়ের আলোচকদের মাধ্যমে পত্রিকায় আলোচনা ছাপান। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বইয়ের বিজ্ঞাপন দেন। লেখকের সঙ্গে ‘বুক সাইনিং ইভেন্ট’, ‘রয়্যালটি গিভিং প্রোগ্রাম’, বইয়ের প্রি-অর্ডার, লেখকের জন্মদিনে বিশেষ মূল্যছাড়, বই নিয়ে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, রিভিউ প্রতিযোগিতা, ভিডিও প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করে থাকেন। এ ছাড়া এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপ্তি ও বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকে সরব হয়েছে। এসব মাধ্যমে বছরজুড়ে বিজ্ঞাপন দেয়  তারা।

আশার কথা, আমাদের দেশের দু-একটি বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ইদানীং ফেসবুকে সরব হতে দেখা যাচ্ছে। বই নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার তৈরি করে তারা পোস্ট দিচ্ছে, ভিডিও পোস্ট করছে। এই বইমেলার মৌসুমে কোনো কোনো প্রকাশনীকে ফেসবুকে ‘পেইড বিজ্ঞাপন’ চালাতেও দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘ডিজিটালি রাইট’ গত ডিসেম্বরে জানায়, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স গত এক বছরে ফেসবুকে বিজ্ঞাপনবাবদ ৭ হাজার ২৯২ ডলার ব্যয় করেছে। অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের হিসাব জানা যায়নি।

এ থেকে আশা করা যায়, সামনের দিনগুলোতে আমাদের দেশের প্রকাশকেরা বইয়ের প্রচারের ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী হবেন। অযাচিতভাবে লেখকদের ‘বইয়ের ক্যানভাসার’ হতে বাধ্য করবেন না।

Related articles

Recent articles

spot_img