1.1 C
New York

পাঠ্যবই: কাগজ ও ছাপার মান এত খারাপ হবে কেন

Published:

ছাপার কাজে ব্যবহার হওয়া কাগজের মিল ও ছাপাখানাগুলোর অধিকাংশের বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ছাপা হওয়া বইয়ের বেশির ভাগই প্রক্রিয়াজাত করা কাগজে ছাপানো হচ্ছে। দেশে বর্তমানে শতাধিক কাগজকল থাকলেও এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটির বিএসটিআইয়ের মানসনদ আছে।

সাধারণত চার ধাপে পাঠ্যবই ছাপানো তদারক করা হয়। প্রথম ধাপে কাগজের মান পরীক্ষা করা হয়, দ্বিতীয় ধাপে বইয়ের ছাপা দেখা হয়, তৃতীয় ধাপে বাইন্ডিং যাচাই করা হয় এবং চতুর্থ ধাপে সব ঠিকঠাক আছে কি না, সেটা দেখা হয়। এরপর বইয়ের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার পরও ছয় মাসের ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ থাকে, অর্থাৎ ত্রুটি থাকলে সেই বই পুনরায় ছাপানোর আদেশ দেওয়া যায়। বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য তদারকি প্রতিষ্ঠানও কাজ করে। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। তাদের দেওয়া রিপোর্টও সব সময় নির্ভরযোগ্য হয় না।

অভিজ্ঞজন মনে করেন, বই ছাপানোর কাজ পেতে প্রাক্কলিত দামের চেয়ে কম টাকায় কাজ নেওয়ায় মান খারাপ হচ্ছে। এ সমস্যা দূর করার জন্য প্রাক্কলিত দরের ১০ শতাংশের নিচে দর গ্রহণ না করার বিধান রাখা উচিত। আর বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য বিএসটিআই বা সায়েন্সল্যাবকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া এনসিটিবির নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ ছাপাখানাগুলোকে কেবল কালোতালিকাভুক্ত করলে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তারিক মনজুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক

Related articles

Recent articles

spot_img