1.1 C
New York

পাঠক যেন বই কেনে, হাত ভর্তি করে কেনে

Published:

সৈয়দ মুজতবা আলীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কে আমি মাঝেমধ্যে গিয়েছি। তাঁর কথা শোনা ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। নাতি-নাতনিদের তিনি সময় দিতেন, প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন, আর গল্প শোনাতেন। এক বিকেলে তাঁর এক নাতি জানতে চেয়েছিল, ‘বই কেনা’ প্রবন্ধটা মাথায় রেখে, বই কেনা সম্ভব না হলে বই পড়ার সুযোগ তো কমে যায়। শহরগুলোতে দু–এক লাইব্রেরি থাকলেও গ্রামে তো তা-ও নেই। তাহলে বই সংগ্রহ করা যায় কী প্রকারে?

উত্তরে তিনি একটি গল্প বলেছিলেন। বইমেলার শুরুতে তাঁর এই গল্পটি আমলে নিলে বই কেনার একটা বিকল্প বাঙালি পেয়ে যেতে পারে। ‘গল্পটি দেশ পত্রিকার একজন আমাকে বলেছেন,’ মুজতবা আলী এভাবে শুরু করেছিলেন, ‘সত্য-মিথ্যা জানি না।’

এই ‘সত্য-মিথ্যা জানি না’ ছিল তাঁর এক নিরীহ রসাস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে তিনি ঘোরতর সন্দেহবাদী অথবা সত্যসন্ধকেও নিরস্ত্র করতেন।

এক তরুণ গবেষককে তার গুরু একগাদা বই কিনতে বললেন। গবেষক বুঝলেন, এসব বইয়ের অর্ধেক তার নিজের কাজে লাগলেও অর্ধেক যাবে গুরুগৃহে। গবেষকের কাঁচা পয়সা নেই। যখন বুঝলেন, বই কেনা অসম্ভব, অথচ বই কেনা না হলে তার স্নাতক হওয়াও অসম্ভব, তিনি এক ফন্দি আঁটলেন। চুলে জটা লাগিয়ে, গায়ে ছাই মেখে, কপালে তিলক এঁটে সাধু বেশে তিনি এক পাহাড়ের ঢালে ধ্যানে বসলেন। তাকে দেখে দু–এক ভক্ত তৈরি হলো, দু–এক শাগরেদও। তাদের মাধ্যমে লোকজন জানল, এই সাধু মানুষের মনোবাসনা মেটাতে পারেন, আপদ-বালাই দূর করতে পারেন। সপ্তাহ না পেরোতে তাকে ঘিরে মানুষের একটা ভিড় দেখা গেল, তার এক শাগরেদ জানাল, তাকে টাকাপয়সা বা কোনো দক্ষিণা দিয়ে সন্তুষ্ট করা যাবে না, যাবে শুধু বই দিয়ে।

বই দিয়ে? মানুষ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল। হ্যাঁ, বই দিয়ে। বই হচ্ছে জ্ঞান রাজ্যের চাবি। আলোকলোকের সিঁড়ি। তবে যেকোনো বই নয়, বিশেষ কিছু বই। অর্থাৎ গবেষকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া গুরুর তালিকাতে থাকা বই।

Related articles

Recent articles

spot_img