19.3 C
New York

নির্বাচনী ইশতেহার মনিটরিংয়ে সেল দরকার

Published:

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর ভিত্তি করে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে থাকে। আর এই ভোটে বিজয়ী হয়েই ক্ষমতায় আসে দলগুলো। সেজন্য সরকার গঠনের পর নির্বাচনী ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়ন হলো তা মনিটরিং করা দরকার। সেখানে রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ থাকবে। এজন্য ইশতেহার মনিটরিংয়ে সেল দরকার।

রোববার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) আয়োজনে নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন: ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়েক সেনের সভাপতিত্বে সেমিনারের সকালের অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবসর) আব্দুস সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিকেলে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী ও শিক্ষা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে ফরেন এক্সচেঞ্জ আসতে শুরু করেছে। সর্বজনীন পেনশন আইন হয়েছে। দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। অনেকেই বলেছিল আমরা শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে যাবে কিন্তু তা হয়নি। অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও সংস্থা আমাদের ঋণ দিতে এগিয়ে এসেছে। দেশে যেভাবে নতুন বিনিয়োগ আসছে তা ভালো দিক। বিশেষ করে জার্মান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরব বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসছে। এটি ধরে রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। দেশে কাজ করতে গিয়ে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেখানে কিছু বাধা আছে তা অতিক্রম করতে পারবো বলেই আমাদের বিশ্বাস।

ড. মসিউর রহমান বলেন, বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের চাকরি না হলে শিক্ষা বেশি সামনে এগিয়ে যাবে না। কম্পিউটার ও আইসিটির ছাত্ররা কাজে ততটা দক্ষতা দেখাতে পারছে না। শিক্ষায় আমরা অনেক এগিয়েছি। স্কুলের অবস্থানটা (দূরত্ব) গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সহজেই শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে পারে। বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ছে। শতভাগ ছেলে-মেয়ে স্কুলে যায়। আমার মনে হয় ওপরের দিকে শিক্ষার কোয়ালিটি কমেনি।

তিনি বলেন, ইশতেহারে আর্থিক সংস্কার বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সরকার সেখানে হাত দেবে না। ব্যবসায়ীরা গাফিলতি ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ে ঋণখেলাপি হলে ছাড় দেওয়া যাবে না।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে একটি সামগ্রিক আলোচনা। এখানে কোনো দুর্বলতা আছে কি না বা বিষগুলো যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দিয়েছে কি না সেটা দেখা। আজকের আলোচনা থেকে আমার মনে হলো দেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা বা চিন্তা এটা কম-বেশি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, গত তিন বছরে দেশে ডাকাতি হয়েছে। বৈশ্বিক চাপে রেখে জ্বালানি খাতে ১৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে। বর্তমানে সমস্যা থেকে উত্তরণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ ভালো করেছে। অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা যে ইশতেহার দিয়েছিলাম মানুষ তা গ্রহণ করেছে। এজন্য এটি মনিটরিং করা দরকার। সে অনুযায়ী কাজ কতটুকু করা সম্ভব হলো। এনিয়ে বিআইডিএস একটি গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিতে পারে। সেখানে উন্নয়নে সব কিছু উঠে আসবে। কেননা আমরা একেকজন একটু একটু করে, যা জানি তাই বলি। অথচ কি পরিমাণ কাজ হয়েছে তা মূল্যায়ন করা দরকার।

দেশে বেশি বিনিয়োগ করা দরকার মায়েদের ওপর। কেননা মায়ের ওপর বিনিয়োগ না করলে আগামী দিনে যে শিশু আসবে সে শক্তিশালী হবে না। আমরা সমৃদ্ধ জাতি পাবো না। শেখ হাসিনা সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেই দেশ এগিয়েছে। এটি আরও অগ্রসর করে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, ইশতেহার হচ্ছে একটি অঙ্গীকার। এটি দেখে মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেয়। সেখানে জাতির জন্য নেওয়া লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো সুনির্দিষ্ট কিনা। এটি কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে এসব প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি গবেষণা আকারে করা হয়েছে। ইশতেহার কোন ফানুস নয় বলেও প্রধান মন্তব্য করেছিলেন। এটি অনেক ভেবেচিন্তে করা হয়েছে। এটি হচ্ছে জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার।

ইশতেহারের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ দরকার বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ মো. সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, ইশতেহার শুধু কেন নির্বাচনের সময় অলোচনা হবে বরং প্রতিবছরই এটির কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা দরকার। এজন্য মনিটরিং সেল করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, ইশতেহারের বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করতে হবে। কথা অনুযায়ী কাজ কতটুকু হলো সেটি দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি প্রভাব হ্রাস এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর্থিক খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমওএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img