4.2 C
New York

দোরগোড়ায় মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ, কী করবে বাংলাদেশ

Published:

দ্বিতীয়ত, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাদের লড়াই চলছে উত্তর রাখাইন অঞ্চলে। রাখাইনে অবশিষ্ট যে দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা রয়ে গেছে, তাদেরও অধিকাংশের বাস এই এলাকাতেই। যদিও চলমান লড়াই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নয়, তবু যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

ফলে সীমান্ত পেরিয়ে তারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই আরেকটি শরণার্থীর ঢল গ্রহণ করতে পারে না। এ ধরনের কোনো প্রয়াস তাই যেকোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম। এই সীমান্তে অনেকটা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সামরিক সমাবেশ করে। বাংলাদেশের দিক থেকে একধরনের সশস্ত্র নিরপেক্ষতা (আর্মড নিউট্রালিটি) দৃশ্যমান হতে হবে।

চতুর্থত, বিগত বছর এবং মাসগুলোয় বাংলাদেশ শুধু মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে, অন্যান্য যে অংশীজন আছে, তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সূত্র রয়েছে বলে জানা যায় না। বাংলাদেশকে বাদ দিলে যে দুটি বৃহৎ প্রতিবেশীর স্বার্থ রয়েছে মিয়ানমারে, তারা হচ্ছে চীন ও ভারত।

এর মধ্যে চীন একদিকে যেমন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, অন্যদিকে তেমনি আরাকান আর্মিরও ঘনিষ্ঠ। লড়াইটা বাস্তবে হচ্ছে চীনঘনিষ্ঠ দুটি পক্ষের মধ্যে।

ভারতের সঙ্গে সম্ভবত আরাকান আর্মির সুসম্পর্ক নেই। তবে ভারতও মিয়ানমারের নন-স্টেট অ্যাক্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। বিশেষ করে এনইউজি গঠন এবং আরাকান আর্মির উত্থানের পর থেকে আমি এবং আরও অনেকেই বলে আসছিলাম যে আমাদেরও এসব সংগঠনের সঙ্গে একটি বিকল্প বেসরকারি যোগাযোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এরূপ একটি সূত্র থাকলে সীমান্তে চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি ওয়াকিবহাল থাকতে পারত, নীতিনির্ধারণে যা সহায়ক হতো।

Related articles

Recent articles

spot_img