15.4 C
New York

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তিন ভাই–বোনের নেই থাকার ঘর, ঠিকমতো জোটে না খাবারও

Published:

খাদিজা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চার বোন, চার ভাই। কেউই জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী নন। পাঁচ-ছয় বছর বয়সের পর মণি সাদা হয়ে চোখে ছানি পড়ে। আর্থিক দৈন্যের কারণে বাবা গোলাম মোস্তফা তাঁদের কারও ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেননি। ২০১৪ সালে তিনি মারা যান। বাবার শোকে মা আনোয়ারা বেগম স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরিবারে আরও অন্ধকার নেমে আসে।

২০২২ সালে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান খাদিজার বড় ভাই জসিম উদ্দিন (৪০)। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বড় বোন রৌশন আক্তার মারা যান ৮ মার্চ। অর্থের অভাবে তাঁদের কারও যথাযথ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর তাঁদের কাফনের কাপড়ও কিনতে হয়েছে প্রতিবেশীদের দানের টাকায়।

খাদিজা আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীনদের ঘর করে দিচ্ছেন শুনে বছরখানেক আগে তাঁরা বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তখন ইউএনও তাঁদের সামনে রেখেই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ফোন করে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁদের আর ঘর দেওয়া হয়নি। বাবার রেখে যাওয়া ১৬ শতক জায়গায় ভাঙাচোরা ঘরে তাঁর দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। সেখানে জায়গা না হওয়ায় এখন তাঁরা ফুফুর বাড়িতে পরিত্যক্ত ঘরে থাকেন। প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক ৭৫০ টাকা এবং তাঁদের মায়ের নামে মাসিক ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতাই এখন একমাত্র আয়ের উৎস। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের দয়া ও দানে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁরা।

Related articles

Recent articles

spot_img