5.9 C
New York

দার্জিলিংয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্রিংলাকে কেন প্রার্থী দিতে চায় বিজেপি

Published:

লোকসভা নির্বাচনের অন্তত দুই মাস আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ৪২ আসনের মধ্যে ১টি আসন নিয়ে নিয়মিত গণমাধ্যমে খবর হচ্ছে। আসনটি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং এবং এর কারণটিও স্পষ্ট। রাজ্য বিজেপির কয়েকটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে, এই আসনে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রার্থী হতে পারেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে জিতেছিলেন বিজেপিদলীয় শিল্পপতি রাজু বিস্তা। তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।

দার্জিলিং আসনের গুরুত্ব

দার্জিলিং নির্বাচনী এলাকা কেবল পশ্চিমবঙ্গকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গেই যুক্ত করেনি, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গেও যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করে। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতাদের একাংশ, সামরিক কর্মকর্তা ও ভূকৌশলগত বিশ্লেষকেরা প্রায়ই বলেন, কৌশলগত গুরুত্বের কারণে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলো সরাসরি দিল্লির নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রয়োজন।

এই করিডরের তাৎপর্য উপেক্ষা করা কঠিন। বাংলাদেশের একেবারে উত্তরের সীমান্ত থেকে নেপালের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রসারিত ‘শিলিগুড়ি করিডর’ দার্জিলিং লোকসভা আসনের সমভূমিতে অবস্থিত। ভুটানের ডোকলাম অঞ্চলের কর্তৃত্ব নিয়ে ২০১৭ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।

ভারতের ভূকৌশল বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সেই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে ওপরের দিকে পাহাড়ে চীনের সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান মজবুত করেছে। অঞ্চলটি শিলিগুড়ি করিডর থেকে মোটামুটি ১৫০ কিলোমিটার ওপরে, যা যেকোনো স্বল্পমাত্রার ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বে চীনের কাছে সবচেয়ে বেশি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চীনা সেনাবাহিনী ডোকলামের ওপরে কৌশলগত পয়েন্টে অবস্থান করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে যে বিষয়ে বিতর্ক নেই, তা হচ্ছে এই করিডরের তাৎপর্য। কোনো কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেলে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্য, সিকিম ও উত্তর পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর অর্থ, ভারতের ৪ শতাংশের বেশি মানুষ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজনকে চেয়েছিলেন, যিনি পেশাদার রাজনীতিবিদ নন; কিন্তু এই স্পর্শকাতর অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও কূটনীতি সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক ধারণা রয়েছে।

ঠিক সেই কারণেই কিনা বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে ভারতের নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার নাম আসছে। এই বিবেচনাকে শ্রিংলা তাঁর পিতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন।

Related articles

Recent articles

spot_img