12.8 C
New York

দাদি বাবাকে পাঠিয়েছিলেন ডাক্তার হতে, কিন্তু তিনি হলেন কবি

Published:

দাদির কাছে মা-বাবার বিয়ের গল্পও শুনেছি। খুব এক মজার গল্প। বাবা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করেছেন মাত্র। খুব উড়নচণ্ডী জীবনযাপন করছেন। দাদা তো খুব হতাশ, সেই সঙ্গে খুব রেগে আছেন। ছেলেকে কীভাবে ঘরবন্দী করা যায়, এ নিয়ে তাঁর বিস্তর ভাবনা। ভাবলেন, বিয়ে করলে নাকি লাইনে আসবেন বাবা। তাই বিয়ে ঠিক করে বাবাকে খবর দিলেন যেন বাড়িতে আসেন অর্থাৎ নিউটাউনে যান। বাবা যথারীতি খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে হাজির। তো বাবাকে দেখে আমার দাদা নাকি দাদিকে বলেছিলেন, ‘তোমার ছেলেকে বলো, কথার যেন হেরফের না হয়।’ দাদার হুমকিতে কাজ হলো। বাবা সোজা গিয়ে বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে। আমার মাকে বিয়ে করে নিয়ে এলেন ঢাকায়। বাবা তখন থাকেন ঢাকার আজিমপুরে। সঙ্গে থাকেন আমার এক ফুফু। ফুফুর কাছে শুনেছি, বিয়ের পর নাকি বাবার খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ওই লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ততা। তখন ছাপাখানার ব্যবসাটা দাঁড় করাতে বাবা দিনরাত শ্রম দিচ্ছেন। এসবের ভেতর মাকে নাকি খুব একটা সময় দিতেন না। মায়ের‌ও নাকি এ নিয়ে এমন কোনো রাগ ছিল না। তিনিও বুঝে গিয়েছিলেন বাবাকে। তবে আমার এই বাবাই নাকি সম্পূর্ণ বদলে যান আমার জন্মের পর। আমার দাদি আর ফুফুদের কাছে শুনেছি, ১৯৮২ সালে যখন আমার জন্ম হলো, এরপর নাকি বাবা পুরোপুরি বদলে গেলেন। মনোযোগী হলেন সংসারে। আমার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে হলেন পুরোদস্তুর সংসারী। তারপর একে একে যা যা করা দরকার, সবই করেছেন আমার জন্য। আমার দাদি বলতেন, আমি হয়েছি বলেই নাকি বাবার এতটা পরিবর্তন হয়েছিল।

মা-বাবাকে একসঙ্গে নিয়ে তেমন কোনো স্মৃতি আমার নেই। কারণ, আমার মা মারা যান, আমার যখন সাড়ে চার বছর বয়স, তখন। আমার মা যখন ময়মনসিংহ মেডিকেলে মৃত্যুশয্যায়, তখন তাঁকে নিয়ে বাবার লেখা কবিতাগুলো পড়ে বুঝি আসলে দুজনের অনুভূতি, ভালোবাসা-ভালো লাগা কতটা গাঢ় ছিল। কী ভালোবাসা বুকে থাকলে আমার বাবা লিখতে পারেন—

‘তোমার চোখ ঝরিয়ে দিল দুটুকরো হিরের কুচি। আমার মনে হলো, অজ্ঞান-অচৈতন্যের অন্ধকারে শুয়ে-শুয়েও এখন তোমার করুণ সন্তানের কথা মনে পড়ছে তোমার। কিন্তু এ রকম পাতা থেকে চোখের অজস্র সাদা শিশিরের ঝরে যাওয়া দেখে কোনো ঘাসবহুল গভীর মাঠের কথা মনে হলো না আমার। শিশিরেরাও ঘাস কিংবা মাঠের মাতৃত্বের অন্ধকার থেকে নেমে আসে কি?

Related articles

Recent articles

spot_img