14.2 C
New York

থ্রিলার লেখকের শেষ গল্প | প্রথম আলো

Published:

‘ছাপতে চাচ্ছেন, ছাপেন। আমার কাছে কী? আর সবাই ছেপেছে না? যে যার ইচ্ছেমতো লিখে দিয়েছে। আমার সাথে কথা বলার তো কিছু নাই।’

বুঝলাম, তিনি বেশ খেপে আছেন। যথেষ্ট কারণ আছে অবশ্য। ঝন্টু সমাদ্দারের মৃত্যুর পর রয়্যালটির টাকা কিছুই নাকি তাঁর পরিবার পায়নি। ঝন্টু সমাদ্দারই যে জ্যাকি ফরস্টার, এটা তাঁরা প্রমাণ করতে পারেননি।

আবারও বোঝানোর চেষ্টা করলাম, ‘আপা, বিশ্বাস করেন, আমার লেখালেখিতে আসার পেছনে আপনার স্বামীর বড় অবদান আছে। কত যে খুঁজেছি ওনাকে। আপনার অবস্থাটা আমি বুঝি। যদি তাঁর একটা অপ্রকাশিত লেখাও দিতে পারেন, আমি হয়তো একটু চেষ্টা করতে পারব। পত্রিকায় ছাপা হওয়া লেখা কিন্তু কোর্টে এভিডেন্স হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। প্লিজ…।’

ঝন্টু সমাদ্দারের স্ত্রী মাথা নিচু করে কী যেন ভাবলেন। গটগট করে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। একটু পর ফিরে এলেন একটা ল্যাপটপ হাতে।

‘নেন, ধরেন। ভেতরে কিছু পাবেন কি না, জানি না। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তো এটা নিয়েই পড়ে থাকত। সারা দিন কী লিখত জানি না।’

‘আপনি ল্যাপটপটা খুলে দেখেন নাই?’

‘খুলতে পারলে তো। পাসওয়ার্ড দেওয়া। শেষ দিকে সে তো পাসওয়ার্ডও মনে রাখতে পারত না। ছোট একটা কাগজে কী সব হাবিজাবি লিখে রেখেছে। দেখেন, কিছু বোঝেন কি না।’

ল্যাপটপটা হাতে নিতে গিয়েই ভেতর থেকে ছোট্ট একটা কাগজ পড়ল। তাতে লেখা—

‘ দেখেছ

–গাছে হেনেছ।’

মানে কী এসবের? ল্যাপটপটা অন করার চেষ্টা করলাম। যা বুঝলাম, ৮ ক্যারেক্টারের পাসওয়ার্ড। অদ্ভুত ছড়াটাতেও ৮টি শব্দের নিচে আন্ডারলাইন করা। কিন্তু শব্দ থেকে বর্ণ খুঁজে বের করব কী করে!

Related articles

Recent articles

spot_img