10 C
New York

‘তামাক জনস্বাস্থ্য এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর’

Published:

তামাক জনস্বাস্থ্য এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ অবস্থায় বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।

রোববার (৩১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ: অগ্রগতি ও করণীয়সমূহ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যে তিনটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম বর্তমান আইনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উপনীত করা। এই আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ছয়টি সুপারিশ জানানো হয়।

সুপারিশগুলো হলো- সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ নিষিদ্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির যে কোনো ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন মনে করে সংশোধনী পাশ হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যেমন বৈশ্বিক মানদণ্ডে উপনীত হবে, একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিও আরও উজ্জ্বল হবে। পাশাপাশি তামাকের ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পথ সুগম হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়নে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সর্বসম্মতিক্রমে তামাক নিয়ন্ত্রণে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। পাশাপাশি তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর মিছিল কমাতে দ্রুত বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ বিদ্যমান আইনে কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। যা তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারছে না।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। গবেষণার তথ্যমতে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিতে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী রোগীদের মৃত্যুর হার ৩ গুণ বেশি ছিল। এছাড়া ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪০ শতাংশেরও বেশি ছিল। তাই আমরা স্পষ্টত বলতে পারি করোনার মতো সংক্রামক মহামারি এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগের কবল থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিদ্যমান আইন শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

এএএম/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img