5.7 C
New York

ঢাকা শহরের সেই সাত মাঠের কলোনি

Published:

সাতটা বিল্ডিংয়ের সামনে একটা করে মাঠ। অনেকটা সেই গানের মতো করে বলি, নীড় ছোট ক্ষতি নেই, ‘মাঠ’তো বড়! আর সবচেয়ে বড় মাঠটা ছিল আমাদের ৯ নম্বর ভবনের সামনে। (সেই পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে এখন নতুন ভবন হয়েছে)। বলছিলাম সত্তর–আশির দশকে ঢাকার আসাদগেট নিউ কলোনির কথা। যেখানে কেটেছে আমার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন। মায়ের চাকরির সূত্রে সেখানে থাকা।

কলোনির ছোট্ট বাসা। কিন্তু ডুপ্লেক্স (দুটি বিল্ডিং ছিল ডুপ্লেক্স)। যাঁরা আমাদের মতো একতলা–দোতলায় থাকতেন, তাঁদের বাড়তি পাওয়া ছিল সামনের ছোট্ট একটা বাগান। তাতেই মাথা নোয়াবার নয় কায়দায় দাঁড়িয়ে থাকত বিশাল এক পাম গাছ। বাঁশের বেড়া আঁকড়ে নির্লজ্জের মতো বেড়ে উঠত মাধবীলতা। গোলাপি রঙের টাইগার লিলি, সাদা লিলি, টগর, হাসনাহেনার পাশাপাশি শীতকালে টমেটো চাষও বাদ যায়নি। গিজার তো ছিল না, কেরোসিন বা গ্যাসের চুলায় গরম পানি কতবার আর করা যায়? শীতকালে এই বাগানে বালতিতে গোসলের পানি গরম করা থেকে শুরু করে লেপ–তোষক রোদে দেওয়া, রোদ পোহানো—সবই হতো। তবে সবই যে কবিতার মতো রোমান্টিক ছিল, তা কিন্তু না। ভারী বৃষ্টিতে মাঠ উপচে রাস্তায় উঠত পানি, অতঃপর ইঞ্চি ইঞ্চি করে বাড়তে বাড়তে একতলার ঘরেও ঢুকেছে কতবার। সে এক ভোগান্তি।

নিচতলায় বসার ঘর, রান্নাঘর, একটি টয়লেট, সিঁড়ির নিচের জায়গায় খাবার ঘর, ছোট্ট বারান্দা। দোতলায় দুটি শোবার ঘর। একটি বড়, একটি ছোট। একটি টয়লেট, ছোট্ট বারান্দা। ব্যস। মোজাইক, টাইলস, স্লাইডিং জানালা—ছিল না কিছুই। কিন্তু আলো–বাতাসের কমতি ছিল না। ছোট্ট বাড়ির বরকতও ছিল অনেক। মা–বাবা, আমরা দুই ভাই–বোন তো ছিলামই; দাদু, নানু, মামা, খালা মিলে ভরা হাট। এর মধ্যে অমুকের চোখের অপারেশন, তমুকের বাচ্চার পেটে ব্যথা, গ্রাম থেকে কেউ না কেউ এসে উঠতই। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজনের কনে দেখা; হলে থাকা ছাত্রের পরীক্ষার প্রস্তুতি; অনিবার্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রছাত্রীর বাক্সপেটরা নিয়ে চলে আসা লেগেই ছিল। এমনকি জাপানি তরুণীর বাঙালি পরিবারে তিন মাস থাকার আতিথেয়তাও বাদ যায়নি!

Related articles

Recent articles

spot_img