12.4 C
New York

‘ডিজাইনার’ আর ‘শপ ওনার’ দুটি ভিন্ন বিষয়: বিবি রাসেল

Published:

বিবি রাসেল
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

এটা আমার বাবার অফিস ছিল। আমার বাবা সাংস্কৃতিক, সাংগঠনিক কাজ করতেন। সেটি-ই উত্তরাধিকারসূত্রে আমি পেয়েছি। আমার প্রতিষ্ঠান একেবারে আমার নিজের পয়সায় চলে। তা ছাড়া আমার বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। এ এলাকার নানান জায়গায় আমার ছোটবেলার স্মৃতি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরি। ১৯৯৫ সালে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে এই অফিস খুলি।

প্রথম আলো :

আপনার জন্ম তো চট্টগ্রাম?

হ্যাঁ, জন্ম চট্টগ্রাম। তবে আমাদের সব ভাইবোনের বেড়ে ওঠা এই পুরান ঢাকায়। আমার যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমার পরিবার ঢাকায় শিফট করে।

২০০৮ সাল থেকে বিবি রাসেল ইউএনএইডসের শুভেচ্ছাদূত
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

প্রথম আলো :

আপনার ছোটবেলার পুরান ঢাকা কেমন ছিল?

আমরা তিন বোন, দুই ভাই। আমরা তিনজনই কামরুন্নেসায় (সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়) পড়েছি। তখন আব্বা-আম্মাকে স্কুলে দিয়ে আসা নিয়ে আসা লাগত না। পুরান ঢাকা তখন সাংস্কৃতিকভাবে খুবই সমৃদ্ধ। সুফিয়া (কবি সুফিয়া কামাল) নানির মেয়েরা (সাঈদা কামাল, সুলতানা কামাল), লায়লা হাসান (নৃত্যশিল্পী)—আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি। আমাদের হাটখোলার বাসার পাশেই ছিল (শেরেবাংলা) এ কে ফজলুল হকের বাড়ি। ওঁদের ছেলেমেয়েরা, (আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ সৈয়দ আজিজুল হক) নান্না মিয়ার ছেলেমেয়েরা, পারভীন হাসান, জসীম উদ্‌দীন ভাই…সব একই এলাকার। মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, (এস এম) সুলতান ভাই, আব্বাস উদ্দীন ভাই, আব্দুল আলিম ভাই, হরলাল রায়দের সঙ্গে আমার বাবা–মায়ের পরিচয়, ওঠাবসা ছিল। সবাই আমাদের বাসায় আসতেন। আমার মা রেঁধেবেড়ে খাওয়াতেন। ‘প্রথমা’ থেকে ‘অবরুদ্ধ ঢাকা ১৯৭১: গোপন প্রতিরোধকারীদের সাক্ষাৎকার’ নামে যে বইটা লেখা হয়েছে, ওখানে আমার বাবা–মায়ের (সংস্কৃতিজন মোখলেসুর রহমান সিধু এবং শামসুন্নাহার রহমান) অবদানের কথা লেখা আছে। এককথায় দেশের রাজনীতি, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি—সব অঙ্গনের সেরা মানুষদের চোখের সামনে দেখে আমার বড় হওয়া। একটা মানুষের গড়ে ওঠার পেছনে তাঁর বাড়ির শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কাকে দেখিনি! দেশের মহিরুহদের কাকে দেখে আমি বড় হইনি! সবার সঙ্গে আমাদের পারিবারিকভাবে ওঠাবসা ছিল।

Related articles

Recent articles

spot_img