7.5 C
New York

ঝুঁকিতে পিছিয়ে থাকা ১৫ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও

Published:

শেরপুর জেলা সদরের গৃদ্দাদা নারায়ণপুর গ্রামে হুদি জাতিগোষ্ঠীর ১২টি পরিবার আছে। এ জাতিগোষ্ঠীর কেউই তাঁদের ভাষায় কথা বলতে পারেন না। এ তথ্য জানিয়ে এ জাতিসত্তার সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস বলছিলেন, ‘আমি তো পারি না, আমার সন্তানেরাও পারে না। অভাবের কারণে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারি না, সেখানে ভাষা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ কই?’

বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে হুদি একটি। হুদিদের নিজস্ব হিসাবে, তাদের সংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি। হুদিদের মতো অনেক জাতিসত্তা আছে, যারা ভাষাকে হারিয়ে ফেলেছে। ভাষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস (সিল) বাংলাদেশের এমন ১৫টি ভাষার বিপন্নতার চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটি বলছে, এসব জাতিসত্তার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থান দুর্বল, আবার তাদের ভাষার অবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে।

কেন এই গবেষণা

সিল প্রায় তিন বছর ধরে ১৫ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গুণগত ও পরিমাণগত গবেষণা করছে। এসব জাতিগোষ্ঠী হলো কন্দ, গঞ্জু, বানাই, বাড়াইক, বাগদি, ভূমিজ, খাড়িয়া, মালো, মুসহর, তেলি, তুরি, রাজোয়ার, হুদি, পাত্র ও ভুঁইমালী।

সিলের এদেশীয় পরিচালক কর্নেলিয়াস টুডু বলেন, ‘আমরা যেসব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে কাজ করেছি, তারা খুব কম পরিচিত। তাদের আরও দৃশ্যমান করা আমাদের কাজের উদ্দেশ্য ছিল। ভাষার বিপন্নতা তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো, তাদের সংরক্ষণে নিজেরা কাজ করা বা অন্যদের উৎসাহিত করা। আমরা দেখেছি, যে জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা যত বিপন্ন, তাদের ভাষাও ততটাই বিপন্ন।’

Related articles

Recent articles

spot_img