7.5 C
New York

জিআই নিবন্ধন নিয়ে সব পক্ষকে তৎপর হতে হবে

Published:

তৌহিদুল ইসলাম: ভারত উপাধা জামদানির জিআই নিবন্ধনের দরখাস্ত দিয়েছিল ২০০৮ সালে আর সার্টিফিকেট পায় ২০০৯ সালের ৫ মার্চ। আর আমরা তখনো জিআই আইনই করতে পারিনি। আমরা জিআই আইন প্রণয়ন করি ২০১৩ সালে এবং এ-সংক্রান্ত বিধিটি তৈরি করি ২০১৫ সালে। এরপর আমরা আমাদের প্রথম জিআই পণ্য হিসেবে জামদানির জিআই নিবন্ধন করি ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর।

এখানে একটি বিষয় স্মরণ করা যেতে পারে, উপযুক্ত ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইউনেসকো ২০১৩ সালে বাংলাদেশকে জামদানির হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে। সে বিচারে জিআই পণ্য হিসেবে জামদানির নাম ব্যবহারের একমাত্র দাবিদার বাংলাদেশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত উপাধা জামদানি নামে জিআই নিবন্ধন নিয়ে নেয়। সে সময় আমাদের দেশে জামদানির জিআই নিবন্ধন না থাকায় ‘ট্রিপস চুক্তি ১৯৯৪’ অনুযায়ী এই শাড়ির উৎপত্তিগত স্থান হিসেবে আমাদের দেশে প্রথম নিবন্ধন করার আবশ্যকতা ছিল। এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায় আমরা ভারতীয় জিআই দপ্তরে উপাধা জামদানির নিবন্ধন চলাকালে এ বিষয়ে আমাদের অভিযোগও জানাতে পারিনি।

ট্রিপস চুক্তি ১৯৯৪ অনুযায়ী, ভারতীয় জিআই আইন ১৯৯৯-এর আওতায় আমরা এ অভিযোগ জানাতে পারতাম। যাহোক, এরপরও আমরা উপাধা জামদানির নিবন্ধন সনদ বাতিলের জন্য ভারতীয় জিআই রেজিস্ট্রারের কাছে এবং প্রয়োজনে আপিলে আদালতে যেতে পারতাম। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামদানির স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের পক্ষে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি পর্ষদে যেতে পারত। অনুরূপভাবে বাংলাদেশে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই নিবন্ধন শেষে টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্বাধিকারী ভারতীয় টাঙ্গাইল শাড়ির নিবন্ধন সনদ বাতিলের জন্য ভারতীয় জিআই রেজিস্ট্রারের কাছে এবং প্রয়োজনে তিন মাসের মধ্যে আপিলে অ্যাপিলেট বোর্ডে যেতে পারে।

অ্যাপিলেট বোর্ড বাতিলের পর সম্ভবত এখন হাইকোর্ট আপিল শুনতে পারেন। এ ছাড়া বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি পর্ষদেও যাওয়া যেতে পারে। মনে রাখা দরকার, ভারতে টাঙ্গাইল শাড়ির নিবন্ধন আবেদন করা হয় ২০২০ সালে এবং তারা সনদ প্রদান করে ২০২৪ সালে। এই লম্বা সময়ে আমরা টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপত্তিস্থল হিসেবে এ বিষয়ে আমাদের অভিযোগ জানাতে পারিনি।

Related articles

Recent articles

spot_img