11.5 C
New York

জার্মান সরকারের ‘ফেডারেল ক্রস অব মেরিট’ পেলেন বাংলাদেশি চিকিৎসা-পদার্থবিদ

Published:

ইকরকুঁড়ি থেকে জার্মানি

৭১ বছর বয়সী গোলাম আবু জাকারিয়ার জন্ম নওগাঁর ইকরকুঁড়ি গ্রামে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা আর পরোপকারী মনোভাবটা পরিবার থেকেই পেয়েছেন। ১৯৬৮ সালে নওগাঁ জেলার কেডি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৭০ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে একই বছর ভর্তি হন আহছানউল্লা স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগে। দেশ স্বাধীন হলে প্রথম বছর বাংলাদেশের যে কজন শিক্ষার্থী বৃত্তি দিয়ে জার্মানি যান, তাঁদের একজন গোলাম আবু জাকারিয়া।

জার্মানিতে গিয়ে প্রথম বছর জার্মান ভাষা শেখেন লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের হারডার ইনস্টিটিউটে। দ্বিতীয় বছর ভর্তি হন মার্টিন লুথার বিশ্ববিদ্যালয়ের হালে-উটেনবার্গে। বিষয় পদার্থবিদ্যা। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় মলিকিউলার বায়োলজির জনক ম্যাক্স ডেলব্রুকের একটি বক্তৃতা জাকারিয়ার মনে গেঁথে যায়, পদার্থবিদদের উদ্দেশে এই নোবেলজয়ী সেখানে বলেছিলেন, ‘বিশ্বে দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে। অনেক রক্তারক্তি হয়েছে। পদার্থবিদদের এখন উচিত, পরমাণু বোমা তৈরির কাজ বাদ দিয়ে চিকিৎসা-পদার্থ নিয়ে কাজ করা। অনেক মানুষ এতে উপকৃত হবে।’

তাঁর এ কথাই জাকারিয়ার জীবনের গতিপথ ঠিক করে দেয়। চিকিৎসা-পদার্থবিদ্যার ওপর কিছু করার ভাবনা তাঁকে পেয়ে বসে। বিষয়টি তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে তাঁর মামা ড. গোলাম মোস্তফাকে জানান। তাঁর মামাও চিকিৎসা-পদার্থবিদ। তিনিও ভাগনেকে উৎসাহ দিলেন, ‘দারুণ চিন্তা। চিকিৎসা-পদার্থবিদদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’

রোগনির্ণয় ও নিরাময় কাজে দরকারি এই চিকিৎসা–পদার্থবিদ্যা। ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে এই বিদ্যা। হাসপাতালে আধুনিক যেসব যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়, তা চিকিৎসা–পদার্থবিদদের তত্ত্বাবধানে থাকে। মামার উৎসাহ পেয়ে ১৯৮০ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা-পদার্থবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেন ভাগনে। ১৯৮৬ সালে এ বিষয়েই পিএইচডি করলেন। সে বছরই কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুমার্চবার্গ হাসপাতালে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠা করা হয় মেডিকেল রেডিয়েশন ফিজিকস বিভাগ। অধ্যাপক জাকারিয়াকেই দেওয়া হয় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব। ২০১৯ সালের আগস্টে অবসরে যাওয়ার আগপর্যন্ত এখানেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ড. গোলাম আবু জাকারিয়া বলছিলেন, ‘ভাবতে ভালো লাগে, একজন চিকিৎসা-পদার্থবিদ হিসেবে আমি ৫০ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিতে পেরেছি।’

Related articles

Recent articles

spot_img