10 C
New York

জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু, একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি

Published:

জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন নির্মলেন্দু গুণ। তিনি বলেন, এরশাদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি ও সে সময় চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে কবিতা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কবিদের এরশাদের দলভুক্ত হওয়া থেকে নিবৃত্ত করার জন্য…। পরিষদের সঙ্গে অনেক তরুণ কবি যুক্ত ছিলেন। পরিষদ গঠিত হওয়ার পর শামসুর রাহমানসহ অগ্রজ কবিদের তাঁরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। কবি সুফিয়া কামাল এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। একপর্যায়ে ১৯৯০ সালে তিনি পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। শামসুর রাহমান তখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কবিতা উৎসবে আসেননি—এমন কবি বাংলাভাষীদের মধ্যে কম আছেন। এভাবে কবিতা পরিষদ দেশের জাতীয় সংস্কৃতি চর্চার একটা ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়।

সভাপতির ভাষণে কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘যুদ্ধের প্রয়োজনে সাম্রাজ্যবাদী-অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য ও মানবাধিকারের প্রহসন আর মানতে পারছি না। পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন অসম যুদ্ধে নারী-শিশুসহ মানুষের প্রাণসংহার, বসতি উচ্ছেদ ও লুণ্ঠনের ভয়াবহতা আমরা সহ্য করতে পারছি না। আমরা প্রেমপ্রীতি, ভালোবাসাময় দেশ ও সমাজ চাই। এই মুহূর্তে ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে সন্ত্রাসী হত্যাযজ্ঞ চলছে। নিহত মানুষের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এই জাতিগত নিধনের ঘটনায় জাতিসংঘসহ সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষেরা ক্ষুব্ধ। যুদ্ধ-গণহত্যার বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে কবিতা উৎসবের কণ্ঠে আমরা স্লোগান তুলে দিয়েছি—যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা। নির্দয় যুদ্ধে গণহত্যা কোনো কবি সহ্য করতে পারে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ আরও বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা ৩০ লাখ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে, করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখনো একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। এই মঞ্চ থেকে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

Related articles

Recent articles

spot_img