19.3 C
New York

চিকিৎসক ও ওষুধশিল্পের ‘রোগ’ সারানোর উপায় কী

Published:

দেশে এরপর আরও তিনবার ওষুধনীতি নতুনভাবে লেখা হয়। এককথায় বলব, এসব ওষুধনীতি ভোক্তা, স্বাস্থ্য ও রোগীবান্ধব হওয়ার চেয়ে বেশি শিল্প ও বাজারবান্ধব। নিষিদ্ধ সব আইটেম এখন ওটিসি হিসেবে চলে। ১৯৮১ সালে ওষুধশিল্পের বাজার ছিল ১৭৫ কোটি টাকা। ১৯৮৫ সালে তা ৩৭৫ কোটিতে উন্নীত হয়। ২০২২ সালে তা সাড়ে তিন বিলিয়ন (৩৫০ কোটি) ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে কাঁচামাল আমদানিতে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের ওপর ব্যয় হয়ে যায়। ওষুধশিল্পের আরও উন্নতি হোক—দেশের মানুষ সবাই চায়। সঙ্গে সঙ্গে গরিব রোগীরা ভালো চিকিৎসা ও ভালো মানের ওষুধ পাক, সেটিও এ দেশের মানুষের অন্যায় চাওয়া নয়।

দুই. ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে শিল্পমালিকেরা ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের উচ্চ মূল্য, বেতন বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণ দেখাবেন। কিন্তু বিপণনের অনৈতিক ব্যয় বন্ধ করার কথা কেন বলা হয় না। এ ব্যয় স্বাভাবিকভাবে ভোক্তার ওপরই আসে। ওষুধের মান অবনমনের ক্ষেত্রে এটিও বড় কারণ।

তিন. ওষুধ রপ্তানিকারক প্রতিটি কোম্পানির একই ওষুধ তৈরির দুটি উৎপাদন ইউনিট। একটি ইউনিটে রপ্তানি পণ্য উৎপাদিত হয়। আর অন্য ইউনিটে দেশের ভোক্তাদের ওষুধগুলো তৈরি হয়। রপ্তানি ইউনিটে বিদেশি ক্রেতারা প্রতিটি চালান নেওয়ার আগে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে নিরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু দেশের বাজারের জন্য ওষুধ উৎপাদনকারী ইউনিটগুলোয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ওষুধ প্রশাসন’ মান নিয়ন্ত্রণে কী কী করে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়। কী কী অডিট, কখন, কোথায়, কীভাবে, কারা করে, সে বিষয়ে কোম্পানি ও ইউনিটওয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফার্মেসি, প্রাণরসায়ন ও রসায়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষকদের দিয়ে তদন্ত করানো উচিত। এখানেই গুণগত মান রক্ষায় ফাঁকফোকর থাকতে পারে।

Related articles

Recent articles

spot_img