12 C
New York

চবি উপাচার্যের পা ধরে ছাত্রলীগ নেতার আকুতি, ভিডিও ভাইরাল

Published:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার লিফট থেকে নেমে বের হচ্ছেন। হঠাৎ করেই উপাচার্যের পায়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে অনুনয়-বিনয় করছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। তার আশপাশে দাঁড়ানো কয়েকজন।

সোমবার (২৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এমনই একটি ভিডিও। ছাত্রলীগের সূত্র বলছ, চাকরির জন্যই উপাচার্যের পায়ে ধরেছিলেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।

পা ধরা ছাত্রলীগ নেতার নাম মইনুল ইসলাম রাসেল। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং উপগ্রুপ একাকারের নেতা। একাকার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

বুধবার (২০ মার্চ) চবির সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতারের চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউরি এলাকা সংলগ্ন নিজ বাসার নিচে এ ঘটনা ঘটে।

ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক শিরীণ লিফট থেকে নেমে নিজ গাড়ির উদ্দেশ্য আসছেন। এমন সময় চবির শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা উপাচার্যের পথরোধ করেন এবং রাসেল হঠাৎ করেই উপাচার্যের পা ধরে ফেলেন। উপাচার্য বিব্রত হয়ে গাড়ির দিকে ছুটে যান। এসময় রাসেলের পাশে ছিলেন আরও দুই সহ-সভাপতি মুজিবর রহমান ও রোমেল হোসেন।

গত ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য ড. মো. আবু তাহেরকে নিয়োগের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শিরীণ অধ্যায়। উপাচার্যের বিদায়কে কেন্দ্র করে চবি পরিণত হয় চাকরির বাজারে। শেষ দিনে প্রায় ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। এছাড়া উপাচার্য তার মেয়াদকালের চার বছরে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। শেষ তিন মাসে এমন নিয়োগের সংখ্যা ১১৭। নিয়োগ পাওয়া বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়-স্বজন এবং শাখা ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মী।

তবে চাকরির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মইনুল ইসলাম। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গতবছরের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় মেরিন সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে আমার কিছু কর্মী উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শাটল ট্রেন অবরোধ করে। এ ঘটনায় আমাকে প্রধান অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমি এর আগে অনেকবার ম্যামকে অনুরোধ জানিয়েছি, ম্যাম ভুল করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দেন। তদন্ত কমিটি থেকে নামটা বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু ম্যাম আমার কথা শোনেননি। সবশেষ বুধবার ম্যামের পায়ে ধরে বলেছিলাম, আপনি মায়ের মতো। আমাকে ক্ষমা করে দিন। কিন্তু ম্যাম শোনেননি।

এ বিষয়ে জানতে চবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আহমেদ জুনাইদ/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img