8.5 C
New York

চট্টগ্রামে অস্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন

Published:

চট্টগ্রামে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক । শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তিনি নগরের উত্তর কাট্টলীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন। অস্থায়ী স্মৃতিসৌধের পাশেই ৪৫ শতক জায়গার ওপর প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের সময় সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী উত্তর কাট্টলীতে ৩০ একর জায়গায় নতুন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে এটির নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আজ উত্তর কাট্টলিতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধের উদ্বোধনের পাশাপাশি ‘বিজয় নিশান’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আ স ম মাহতাব উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামাল। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরীর থানা ও উপজেলা সংসদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, ‘ছয় দফা আন্দোলনের সূচনা চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। চট্টগ্রাম বেতার থেকে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করা হয়। অপারেশন জ্যাকপট চট্টগ্রাম বন্দরে হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য।’

চট্টগ্রামে অস্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া প্রায় ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। আর স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মিলে প্রায় সাড়ে ২৩ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। আপনারা তুলনা করলে বুঝতে পারবেন কোন দল দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার অপশক্তিরা পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তারা এখনো বাংলাদেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অনন্য অবদান রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়া হয়। এখানে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান ও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাসহ অনেক কিছু চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে নৌ-কমান্ডারা কাজ করেছেন।’

‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, চট্টগ্রামে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, স্মৃতিস্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর নেই। এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ হবে-এটা চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখানে অস্থায়ীভাবে হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মৃতিস্তম্ভ করেছি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে কম সময়ের মধ্যে অর্থ্যাৎ ২৩ মার্চের আগে এটির কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামী ২৬ মার্চ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে পারবো।’

বধ্যভূমি সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে সব বধ্যভূমি রয়েছে। সেগুলো সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। পাহাড়তলীর খুলশীতে যেসব বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মামলাজনিত কারণে এ কাজটি শেষ করতে পারেনি। এখন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামের বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে।’

এএজেড/জেএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img