8.4 C
New York

চক্রটি প্রভাবশালী, সবাই চুপ | প্রথম আলো

Published:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিরপাশা ও বুধন্তি গ্রামের তিনজন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক মেম্বার এক মাসের বেশি সময় ধরে নদীর পাড়ের উঁচু টিলা এবং পাশের খাস খতিয়ানের জায়গার মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। দূরত্ববেদে ১ ট্রাক মাটি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন এই নেতা। ইটভাটার দূরত্ব ১০০ থেকে ২০০ গজের মধ্যে হলে ১ ট্রাক মাটি বিক্রি করে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দূরত্ব যদি ৪০০ থেকে ৫০০ গজ হয় তাহলে এক ট্রাক মাটি আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সাবেক ইউপি সদস্য সোলায়মান ও তাঁর ভাই ওসমানও নদীর পাড়ের বুধন্তি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। প্রতি রাতে অর্ধশতাধিক ট্রাক্টর মাটি নিয়ে বিক্রি করছেন তিনি। বেশির ভাগ মাটি বুধন্তির জামান ইটভাটায় নিয়ে বিক্রি করছেন তিনি।

বিরপাশা গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘মাটি কাইট্টা রাত্রে লইয়া যায়গা। চুরি কইরা মাটি কাটে তারা। রাতের বেলা হেরাকে কেডা বাধা দিব।’

তবে মনির হোসেন বলেন, ‘কেউ মাটি বিক্রি না করলে তো আর জমির মাটি আমি জোর করে নিতে পারব না। নদীর পাড়ের স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে মাটি নিয়ে বিক্রি করছি। জামান ইটভাটাসহ বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির পাশাপাশি কিছু জায়গাও ভরাট করেছি।’ তিনি বলেন, ‘এটি মরা গাঙ (নদী) ছিল। এটি ২০ থেকে ৫০ ফুট প্রশ্বস্ত ছিল। খনন করে এটি ১০০ থেকে ১৫০ ফুট প্রশ্বস্ত করা হয়েছে। খননের মাটি স্থানীয় মানুষের জমির ওপরে রাখা হয়েছে। অনেকে ওই মাটি বিক্রি করে দিয়েছে ও অনেকে পাড় কেটে জমির সঙ্গে মাটি মিলিয়ে ফেলেছে। এখন মানুষ শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।’

সাবেক ইউপি সদস্য সোলায়মান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদীর পাড় থেকে আজ পর্যন্ত এক চিমটিও মাটি কাটি নাই। অভিযোগ সত্য নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে মাটি কাটার বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। রাতে যেন মাটি কাটতে না পারে, সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Related articles

Recent articles

spot_img