20.5 C
New York

ঘুমের সময় কমাতে আমরা কি আমাদের মনকে বাধ্য করছি

Published:

সেদিন খবরে দেখলাম ঘুম কম হওয়া মানুষ বাড়ছে। ঘুম ভালো না হওয়া, ঘুমে সমস্যা হওয়া বা ঘুম গভীর না হওয়ার কথা আজকাল শুনতে পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যে কারণেই হোক রাতে ঘুম ভালো না হলে পরের দিনটি হয় বিশৃঙ্খল বা এলোমেলো। ঘুম না হলে মানুষ ক্লান্ত বোধ করেন, মনোযোগ ও সতর্কতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘুম না হলে অনেক সময় মানুষ স্মৃতিভ্রষ্ট হয়। ঘুম না হওয়া মানুষ খিটখিটে মেজাজের হয়, কেউ কেউ হতাশায় ভোগেন। ঘুমের সমস্যায় থাকা মানুষের দুর্ঘটনায় পড়া বা আহত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই যে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস হাইওয়েতে দুর্ঘটনায় পতিত হয়, এদের একটি বড় কারণ চালকের ঘুম। এসব দূরপাল্লার গাড়িগুলোর চালকেরা খুব কম ঘুমানোর সুযোগ পান। গাড়ি টানলেই টাকা, কাজেই দিনরাত না ঘুমিয়ে এরা গাড়ি টানেন আর দুর্ঘটনা ঘটান।

ঘুম কম হওয়া বা না হওয়ার সমস্যা দিন দিন বাড়ছে, সেই তুলনায় বাড়ছে না সচেতনতা। ঘুমের জন্য মানুষ ওষুধনির্ভর হয়ে পড়ছেন। নানা ধরনের কারণ ঘুমের শত্রু। এর মধ্যে আছে শিশু, পোষা প্রাণী, শব্দ, আলো, তাপ, শয্যার ধরন, ব্যথা, শয্যাসঙ্গী, কাজের ধরন, অভ্যাস, মাদক, ওষুধ, টেলিভিশন, রেডিও, কম্পিউটার, মুঠোফোন ও আরও অনেক কিছু।

ইদানীং শিশুরা অনেক রাত পর্যন্ত জাগে। বাবা-মাকেও জাগতে বাধ্য করে। অথবা বাবা-মা জেগে থাকেন বলেই শিশুরাও জেগে থাকে। অথচ ঘুমের সঙ্গে সব বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক আছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকেরা তাই মানুষকে পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দেন।

সাধারণত আমাদের শরীরে ঘুম ও জেগে থাকার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। যাকে ইংরেজিতে বলে ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’। অথচ নানা কারণে এই দেহঘড়ির সিস্টেম এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

Related articles

Recent articles

spot_img