23.4 C
New York

ঘরের ভেতর হাতি | প্রথম আলো

Published:

বাড়িওয়ালা বলেন, যেমন ম্যারেজ কাউন্সেলিং। আজকাল অনেক বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। দশ বছর, বিশ বছরের বিয়েও টিকছে না। ম্যারেজ কাউন্সেলিং খুব ভালো পেশা হতে পারে।

শুনে তিনি হেসে বললেন, তা হতে পারে। কিন্তু আমি যে কাজটা করছি, সেটাও তো কাউকে না কাউকে করতে হবে?

বাড়িওয়ালা মুখ শুকনো করে বললেন, আপনার এই কাজের একটা বড় অসুবিধা কী জানেন?

কী?

আপনাকে ঘন ঘন অফিস বদলাতে হবে। খুব ঝামেলার না সেটা?

তিনি সামনে ঝুঁকে টেবিলে হাত রেখে বললেন, চা খাবেন? ফ্লাস্কে গরম পানি আছে। প্যাকেটে টেটলির চায়ের ব্যাগ।

বাড়িওয়ালাকে চা খেতে দিয়ে তিনি বললেন, আপনি ধীরেসুস্থে চা খান। আমি এর মধ্যে অফিস সহকারীকে বলছি কোন কার্টনে কোন ফাইল রাখতে হবে। দুপুরের মধ্যে কাজ শেষ করে বিকেলে বাসা হ্যান্ডওভার করব আমি।

এই বলে তিনি স্থগিত রাখা কাজ আবার শুরু করলেন। এ, বি, সি লেখা কার্টনে দ্রুত ফাইলগুলো রাখতে থাকল তাঁর সহকারী। তিনি কম্পিউটারে একনজরে দেখেই বলে যেতে থাকলেন কোন ফাইল কোন কার্টনে যাবে।

কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এই সময় পিয়ন এসে বলল, এক মহিলা দেখা করতে চান।

তিনি কাজ থামিয়ে একবার বাড়িওয়ালার দিকে তাকালেন, তারপর পিয়নকে বললেন, আসতে বলো।

কিছুক্ষণ পর এক মহিলা ঢুকলেন। বয়স তিরিশের ওপর হবে। চোখে-মুখে বিষণ্নতা। তাঁর সঙ্গে বছর পাঁচেকের একটা মেয়ে। তাকেও বিষণ্ন দেখাচ্ছে।

ভদ্রমহিলা বসে বাড়িওয়ালাকে দেখে কিছু বলতে ইতস্তত করলেন। তাঁর ভাব দেখে তিনি বললেন, এর সামনে বলতে পারেন। তিনি জানেন আমার কাছে কেন মানুষ আসে।

ভদ্রমহিলা বললেন, গত মাসে বাড়িতে এসে কারা যেন ওর বাবাকে নিয়ে গেল। আমাকে বলল রাতেই ফিরে আসবে। এক মাস হয়ে গেল, এখনো আসেনি। তার ফোনটাও বন্ধ। এই বলে তিনি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ মুছলেন।

তিনি তাঁর ওয়ালেট থেকে একটা কার্ড বের করে মহিলার হাতে দিয়ে বললেন, দেখতেই পারছেন আমাদের অফিস এখান থেকে চলে যাচ্ছে। আমাদের নতুন ঠিকানা হবে এটা। হাত দিয়ে লেখা আছে। দুদিন পর আমাদের অফিসে আসুন। এর মধ্যে আমরা অফিস গুছিয়ে নেব।

মহিলা বললেন, মেয়েটা তার বাবা যাওয়ার পর থেকে খাওয়াদাওয়া করে না। স্কুলে যায় না। তিনি আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, তার মেয়ে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলল, তুমিও তো খাও না মা।

মহিলা মুখ নিচু করে রাখলেন। একটু পরপর চোখ মুছলেন শাড়ির আঁচল তুলে।

বাড়িওয়ালা চায়ের কাপ টেবিলে রেখে মহিলাকে বললেন, আপনি এখনই বলুন যা বলার। আমি উঠে যাচ্ছি।

উঠতে উঠতে তিনি তাঁর উদ্দেশে বললেন, সিনেমার মতো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমি সত্যি বলছি, আপনার অফিস এখানেই থাকবে। তারপর যেতে যেতে বললেন, জীবনে কোনো সাহসের পরিচয় দিইনি। এই শেষবেলায় একটু চেষ্টা করে দেখি। হাঁ, আপনার অফিস এখানেই থাকবে।

তিনি সামনে তাকালেন। দেয়ালে হাতিটা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁকে একদৃষ্টে দেখছে।

Related articles

Recent articles

spot_img