13.4 C
New York

খেলার স্বাধীনতায় শিশুদের জয় | প্রথম আলো

Published:

এখানে উল্লেখ্য, আমার বর্তমান কর্মক্ষেত্র ব্র্যাক আইইডিতে গবেষণার একটি বড় অংশজুড়ে আছে ‘খেলার মাধ্যমে শিশুদের বিকাশ’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো কিছু শেখার জন্য শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম হলো খেলা। প্রকৃতির মাঝে খেলার যে উদাহরণের কথা বললাম, এ ধরনের খেলায় শিশুরা নিজেদের কৌতূহল থেকেই অংশগ্রহণ করে। বাবা-মায়েরা খুব সহজেই কাছাকাছি কোনো পার্কে, খেলার মাঠে বা প্রকৃতির মাঝে নিয়ে যেতে পারেন যেন শিশুরা নিরাপদ, মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে মনের আনন্দে খেলতে পারে।

এ ধরনের খেলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে কোনো খেলনার প্রয়োজন হয় না। শিশুরা প্রকৃতিতে পাওয়া গাছের পাতা, নুড়ি, ফুল ইত্যাদি দিয়ে নিজেরাই অনেক কিছু তৈরি করে খেলতে থাকে, যা তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে দারুণভাবে কাজে দেয়।

নানা গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা সৃজনশীল চিন্তা থেকে শুরু করে মনের ভাব প্রকাশ করা, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায় খেলার মাধ্যমেই করে থাকে। খেলার মাধ্যমে তারা তাদের আবেগ প্রকাশ করে, পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে, এমনকি মা–বাবা বা পরিবারের বড় যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্কও স্থাপন করে।

যে শিশুর বয়স এক বছরের কম, কথা বলতে শেখেনি, তার দিকে বল ছুড়ে দিয়ে, পুতুল দেখিয়ে বা মজার মজার গল্প ও ছড়া বলে খেলা করা যায়। দুই থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে, কাগজ দিয়ে মজার কিছু বানিয়ে বা ছবি এঁকে খেলা যায়। আমরা ঘরে বসে অনেক সময় লুডো, ক্যারম বা দাবা খেলি, কখনো চোর-পুলিশ-ডাকাত খেলাটি করেও মজার সময় কাটাই। এভাবেই খেলা পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

Related articles

Recent articles

spot_img