5.1 C
New York

কোথাও কি ভুল ছিল | প্রথম আলো

Published:

মুহূর্তেই রোকনের কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। ‘না, না, আপনি যা ভাবছেন, তা নয়। ভুল হচ্ছে কোথাও।’

মেয়েটা তেরছা চোখে তাকিয়ে হেসে ওঠে। ‘শোনেন ভাই, লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। রাত হয়েছে। যদি মন চায়, চলেন।’

পাশ ফিরে তাকিয়েও রোকন চোখ ফিরিয়ে নেয়।

‘আপনি মশাই আজিব লোক। প্রথম থেকেই আপনাকে ফলো করছি। দুটো মেয়ে আপনার সামনে দিয়ে গেল-এল, খেয়ালই করলেন না? আশ্চর্য।’

রোকন নীরব। কথাহীন।

‘আপনি কবি, নয়তো শিল্পী। শিল্পীরা এমন রাত জেগে ঘুরে বেড়ায়।’

সাড়া দেবে না ভেবে গাঁট হয়ে বসে থাকে রোকন। কিন্তু মেয়েটার আবেদন এড়াতে পারে না।

…রিকশা থেকে নামার পর বাসার গলিতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটা বোরকা খুলে ফেলে। রোরকার নিচে তাঁর টাইট জিনস ও কামিজ পরা ঢেউখেলানো শরীর; ভয়াবহ সুন্দর।

গেট বন্ধ হয়ে গেছে।

সাবধানে তালা খুলতেই মেয়েটা তাকে ঠেলে ভেতরে ঢোকে।

তিনতলায়; রোকন ফিসফিস করে। কেউ টের পেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

তালা ঝুলিয়ে দুজনে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকে। সামনে মেয়েটা। তার রহস্যময় হাসি, সিঁড়িভাঙা, ভারী নিতম্বের ঢেউ দেখে সে বিচলিত হয়। মনে হয়, মেয়েটা নির্বোধ গণিকা নয়। বয়স কম, তবু শরীরের আবেদন ভয়াবহ।

‘এত ভয় পাওয়ার কী আছে! এসো’—বলেই মেয়েটা রোকনের বাহুটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরে। রোকন থরথর করে কেঁপে ওঠে।

অনেক দিন আগে পরান মাস্টারের বেহালা শুনে রোকন খুব কেঁদেছিল। বেহালার সুরে লোকটা জাদু মাখিয়ে দেয়, বুকটা কেমন টাটায়। কত দিন সে হাসে না। কাঁদেও না। মন খুলে কথা বলে না। এই অনিশ্চয়তার রাতে সে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তার চোখ দুটো ভিজে যায়।

সিঁড়ি ভাঙার সময় রোকনের ভেজা চোখ কি দেখে ফেলে মেয়েটা?

ঘরে ঢুকতেই সে রোকনের বুকের সঙ্গে লেপটে থাকে। অদ্ভুত নরম একটা ঘ্রাণ ওর শরীরে। কী পারফিউম মাখে সে, একবার জিজ্ঞেস করতে হবে।

দরজা বন্ধ করতেই মেয়েটা ঘরময় পায়চারি করে। ‘তোমার ঘরটা তো খুব সুন্দর। একটু অগোছালো, এই যা। খাট ও মেঝেতে বই, খাবারের প্যাকেট, ফুলদানি, অ্যাশট্রে। তার চেয়েও এলোমেলো তোমার মন।’

‘আমার আসলে বউ চলে গেছে।’

Related articles

Recent articles

spot_img