4.9 C
New York

কেমন আছে জাদুর শহরের শিশুরা

Published:

আছে নিরাপত্তার ঘাটতি। অধিকাংশ পার্ক কিংবা বিনোদন কেন্দ্র বখাটেদের দখলে। এই শহরে অভিভাবকের হাত গলে কোনো শিশু একবার হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে, সেই ভরসাটুকু নেই!  রেস্টুরেন্টগুলো যেকোনো মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিপদ জেনেও মা–বাবা বাধ্য হয়ে সেখানে সন্তানদের নিয়ে যান, কারণ বিনোদনের উৎস খুবই বিরল এই শহরে।

রেস্টুরেন্টে সামান্য খেয়েই শিশুরা এই শহরে বিনোদন খোঁজে। এখানে অধিকাংশ স্কুলে নেই খেলার মাঠ। নেই শিখন-শিক্ষণ উপযোগী অনুকূল পরিবেশ কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে শিক্ষার্থীরা কোথায় কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখবে, সে বিষয়ে নেই কোনো প্রস্তুতি কিংবা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

শিশুদের জন্য এখানে আছে কেবলই বইয়ের বোঝা আর কোচিং সেন্টার নামক পড়া মুখস্থের কেন্দ্র। এই শহরে আছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, রাশি রাশি ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়াবাহী মশা। শিশুদের বিনোদন এখানে বন্দী ল্যাপটপে আর মুঠোফোনের স্ক্রিনে। জাদুর শহরের শিশুদের শৈশব আজ হুমকির মুখে।

এই শিশুদের ক্ষয়ে যাওয়া বিবর্ণ শৈশবের জন্য জবাবদিহি করবে কে? অথচ এই দেশে আছে শিশুনীতি, শিশু আইনসহ শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষার নানা আয়োজন। জানি, এই আইনকানুনগুলো বাস্তবায়নের কান্ডারি যাঁরা, তাঁরা এর দায়ভার কখনো নেবেন না। এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে চলবে দায় এড়ানোর গোলকধাঁধা। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শিশু হওয়ার পরও এ দেশে শিশুদের জন্য নেই আলাদা কোনো অধিদপ্তর। ভয় হয় শৈশব হারানো শিশুদের দীর্ঘশ্বাসে একদিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে না তো জাদুর এই শহর?

Related articles

Recent articles

spot_img