5.1 C
New York

কুড়িগ্রামের চরে যেসব কারণে মা ও শিশুমৃত্যু বেশি

Published:

৬০০ নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় জানতে চাওয়া হয়েছিল, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রসবকালের সেবা কোথা থেকে নেন চরের
মানুষ। এর উত্তরে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চরের একটি বড় অংশ নারীর গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সচেতন নয়। কোথায় গেলে এই সেবা পাবেন, সেই ধারণাও তাঁদের কম। কমিউনিটি ক্লিনিক যে এই সেবা দেয়, সেটি তাঁদের অজানা। আবার যাঁরা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে যান, তাঁদের অনেকেই বলেছেন, পর্যাপ্ত জনবল ও স্বাস্থ্যসেবাসামগ্রীর ঘাটতি আছে।

ফলে চরের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা দাইমায়ের ওপর ভরসা করেন। এমন এক দাইমা উলিপুর উপজেলার চর আইরমারীর আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, তিনি তাঁর ফুফুর কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন। আনোয়ারার যখন বয়স ৪০, তখন ফুফু তাঁকে নিয়ে যেতেন। দেখে দেখে তিনি শিখেছেন। আনোয়ারা বলেন, ‘আমাগো চরের দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো ডাক্তার নাই, দাইমাও নাই। আমার ফুফু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাইমা ছিলেন। তাঁর কাছেই শিখছি।’

প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের জনসংখ্যা অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা ৮৩টি। এর বিপরীতে আছে ৫০টি। কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেবা সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের ধারণা কম থাকায় আগ্রহ কম, জনবল ঘাটতির পাশাপাশি আছে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে যাতায়াতের অসুবিধা।

সিভিল সার্জন মো. মঞ্জুর-এ মুর্শেদ অবশ্য দাই দিয়ে বাসায় সন্তান জন্মদানের চেষ্টার বদলে কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন কমিউনিটি ক্লিনিকেই স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক আছেন।’ তবে চরের অসচেতন মানুষের সচেতনতা কীভাবে বাড়ানো যায় কিংবা তাঁদের কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসতে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

Related articles

Recent articles

spot_img