4.9 C
New York

কাদামাটিতে জীবন খোঁজেন তিনি | প্রথম আলো

Published:

সম্প্রতি ঢাকার সাভারের কাতলাপুরে বখতিয়ার কারিগরের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাসভবনের একটি অংশে পাকা দেয়ালের টিনের চালার একটি লম্বা কক্ষের কিছু অংশ দখল করে মেঝেতেই রাখা হয়েছে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্য। কক্ষের শেষ অংশে বানানো হয়েছে কাঁচা মাটির তৈরি পণ্যগুলোকে পোড়ানোর জন্য চুল্লি। একটি অংশে সাজানো-গোছানো অবস্থায় কাঠের কাজ করতে কাঠ কাটার যন্ত্রপাতি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ছোট আকৃতির কাঠের তাকে রাখা হয়েছে শিল্পের ছোঁয়া লাগা কাঠ ও মাটির মিশ্রণে তৈরি কিছু শিল্পকর্ম। এ সময় বখতিয়ারকে দেখা যায়, মাটি দিয়ে হুইলে পটারি বানাতে।

যেখান থেকে শুরু

১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চিন্তা বাদ দিয়ে বখতিয়ারের ইচ্ছা হয় কবি হওয়ার। মির্জা গালিবের চরিত্র ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল তাঁকে। লক্ষ্যহীন জীবনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। এসব কারণে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোনো চেষ্টা করেননি। একপর্যায়ে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরিচয় হয় ওই স্কুলের ড্রইং শিক্ষক হীরার সঙ্গে। ওই সময় বনসাই করার চেষ্টা করতেন বখতিয়ার। কথা প্রসঙ্গে ওই শিক্ষক জানিয়েছিলেন, মাটি এনে দিলে বনসাইয়ের জন্য তাঁকে টব বানিয়ে দেবেন। এ সময় কাজটি নিজেই শিখে নেন বখতিয়ার। পরে শিক্ষক হীরা, বন্ধু রোকন ও বাবুকে নিয়ে তিনি ৩০০ টাকার মাটি কিনে টব বানানোর কাজ শুরু করেন।

প্রথম দিকে বাঁশের বেড়ার একটি ঘরে কলমদানি, টব, ছোট ছোট টেরাকোটা বানানো শুরু করেন বখতিয়ার ও তাঁর সঙ্গীরা। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক স্বপন শিকদারের সঙ্গে পরিচয় হয় বখতিয়ারের। স্বপন শিকদার মাটি দিয়ে বানানো পণ্য পোড়ানোর বিষয়টি হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়েছিলেন বখতিয়ারকে।

Related articles

Recent articles

spot_img