8.3 C
New York

এরশাদনামা: আন্দোলন ও কেলেঙ্কারির যেসব খবর ছাপা হতো না

Published:

এ ধরনের ‘প্রেস অ্যাডভাইস’ সামরিক শাসন তুলে নেওয়ার পরও জারি ছিল। যেমন, ১৯৮৪ সালের ২ অক্টোবর বলা হয়, গতকাল গলফ ক্লাব এলাকায় যে ডাকাতি হয়েছে, তার খবর যাবে না। ৭ অক্টোবরের নির্দেশ ছিল, ময়েজউদ্দিন হত্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরশাদ জড়িত বলে ড. কামাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কোনোভাবেই ছাপা যাবে না। ৯ অক্টোবর বলা হয়, হোটেল সোনারগাঁওয়ে টেলিকমিউনিকেশন সম্পর্কে সেমিনার হচ্ছে। তাতে আর্মির কোনো নাম এলে ছাপা যাবে না। ১১ অক্টোবরের নির্দেশ ছিল, অলি আহাদের মামলার শুনানি সম্পর্কে কিছু যাবে না।

রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নিয়েও নানা ধরনের অ্যাডভাইস আসত তখন। যেমন, ১৯৮৪ সালের ১৪ অক্টোবরের নির্দেশ ছিল, ঢাকায় ১৫ দল, ৭ দল ও জামায়াতের গণসমাবেশের কোনো খবর যাবে না। সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে ১৫ দলের প্রস্তাব যাবে না, চিফ অব স্টাফ সম্পর্কে খালেদা জিয়ার বক্তব্য যাবে না। বিচারপতি সাত্তার ও মির্জা গোলাম হাফিজের বক্তব্যের কিছুই যাবে না। খবরে কোনো আবেগ বা উচ্ছ্বাস দেওয়া যাবে না। ২০ ডিসেম্বর বলা হয়, ২২-২৩ ডিসেম্বর ৪৮ ঘণ্টা হরতাল সম্পর্কে কোনো খবর যাবে না। ২১ ডিসেম্বরের নির্দেশ ছিল, রাজনীতি বন্ধ: রাজনৈতিক কোনো খবর যাবে না। আবার ১৯৮৫ সালের ১ মার্চের নির্দেশ ছিল, রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও তাঁর কোনো অংশের সমালোচনা করা যাবে না, আস্থা ভোটের সমালোচনা যাবে না, সামরিক আইন, আদেশ ও সামরিক আদালতের সমালোচনা যাবে না। ধর্মঘট মিছিল, সভা-সমাবেশের খবর যাবে না।

১৫ এপ্রিল বলা হয়, পয়লা বৈশাখে রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানে মঞ্চ দখলের খবর যাবে না। ১১ মে জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনসমাবেশে পুলিশের গুলিতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর যাবে না। ২৯ মে বলা হয়, লাশের ছবি ছাপা যাবে না। ৮ জুন বলা হয়, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর পদবি ছাপা যাবে না, শুধু নাম ছাপা যাবে। ১৬ আগস্ট বলা হয়, ডিফেন্স সার্ভিসের কোনো সদস্য চোরাচালানের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছে, এমন খবর যাবে না। জাতীয় ফ্রন্ট ঘোষণার খবর যাবে। তবে কোনো ব্যক্তি, সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তা যাবে না।

৯ সেপ্টেম্বর বলা হয়, বনানী এমপি পোস্টের কাছে এমপি ও জনতার মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে, এ খবর যাবে না। ২২ সেপ্টেম্বরে নির্দেশ ছিল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) পরিবেশিত পাটের খবর বড় করে ছাপতে হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বলা হয়, শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের এক লাইনও যাবে না। ২৫ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ ছিল, প্রেসিডেন্টের চট্টগ্রামে ভাষণ; ‘আমার জনদল’ এই কথা যাবে না। ২১ অক্টোবর বলা হয়, আজ প্রেসিডেন্ট এরশাদ টিএসসির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ দেখানো হয়। তার একটি লাইনও যাবে না। ২৯ অক্টোবর নির্দেশ আসে যে কাজী জাফরের চিনিসংক্রান্ত এনার খবর বিশেষভাবে ‘হাইলাইট’ করতে হবে। ১০ নভেম্বরের নির্দেশ ছিল, প্রেসিডেন্টকে হরতাল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলো যাবে না।

Related articles

Recent articles

spot_img