5.6 C
New York

এত মৃত কাছিম কেন ভেসে আসছে, সাক্ষাৎকারে যা বললেন গবেষক

Published:

শাহনেওয়াজ চৌধুরী: পৃথিবীতে সাত প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম আছে। তার মধ্যে পাঁচ প্রজাতির কাছিম বাংলাদেশে পাওয়া যায়। তিনটি প্রজাতি আমাদের উপকূলে ডিম দেওয়ার জন্য আসে। তাদের মধ্যে অন্যতম অলিভ রিডলে, গ্রিন বা সবুজ রঙের সামুদ্রিক কাছিম ও হকস বিল কাছিম। টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার, সোনাদিয়া ও কুয়াকাটায় এগুলো পাওয়া যায়।

এবার এতসংখ্যক কাছিমের মৃত্যুর পেছনে কয়েকটা কারণ আছে মনে হয়। সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় আড়াই শ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার আছে, যেগুলো উপকূল থেকে দূরবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে মাছ ধরে। ট্রল নেট (বড় টানা জাল) ব্যবহার করে। এসব মাছ ধরার ট্রলার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় চষে বেড়ায়। ৪০ থেকে ৭০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মাছ ধরে।

উপকূলের কাছাকাছি থেকে মাছ ধরে ৬৫ হাজারের বেশি ট্রলার, যারা গিল নেট বা ভাসমান ফাঁসজাল ব্যবহার করে। উপকূলের দিকে ডিম দিতে আসার সময় কিংবা গভীর সাগরে থাকার সময় জালে আটকে আঘাতপ্রাপ্ত হয় কাছিম। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সাধারণত অলভি রিডলের ডিম পাড়ার সময়। ওই সময় লবণাক্ততা বেশি, পলির পরিমাণ কম ও পানি স্বচ্ছ থাকে। সাগরও তুলনামূলক কম উত্তাল থাকে। তাই কাছিমের উপকূলের দিকে আসার এটা অনুকূল সময়।

এ ছাড়া জাহাজ বা ট্রলারের আনাগোনা বাড়ার কারণে প্রপেলার কিংবা অন্য কিছুর ধাক্কায় আঘাত পায় কচ্ছপ। এর পাশাপাশি অন্য প্রজাতি, বিশেষ করে হাঙরের মতো জলজ প্রাণীর আক্রমণেও মারা যেতে পারে। তবে তা বাংলাদেশ উপকূলে কতটা, তা গবেষণার বিষয়।

কাছিম মারা যাওয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে দূষণ। বিশেষ করে জেলেদের অনেক আবর্জনা সমুদ্রে পড়ে। ট্রলারের আবর্জনা, ছেঁড়া জাল, প্লাস্টিক, কর্কশিট, পোড়া তেলসহ নানা কারণে সাগর দূষিত হচ্ছে।

Related articles

Recent articles

spot_img