5.7 C
New York

এক মাস ধরে মাটি কেটে গ্রামবাসীর জন্য সুপেয় পানি এনেছেন উপকূলের রাসেল

Published:

গ্রামের মানুষ এই কাজে সুফল পাচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হলে খুড়িয়াখালী গ্রামের মসজিদের ইমাম ইমাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাড়ি পাশের শরণখোলা গ্রামে। ইমামতি করতে থাকি খুড়িয়াখালীতে। পানির কষ্ট যে কতখানি, আপনারা বুঝবেন না। দুই গ্রামের মানুষই রাসেল ভাইয়ের এই উদ্যোগে অনেক উপকার পাইতেছে।’

তবে পানির এই ব্যবস্থা একবার করাতেই বিপদ কেটে গেছে এমন নয়। নিয়মিত তদারকি করতে হয়। না হলে কল, পিএসএফ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে থাকে। এ বছর পানির পাইপ চুরির ঘটনাও ঘটেছে একবার। কিন্তু রাসেল আহমেদ তাতে দমে যাননি।

মানুষের উপকারের জন্য এত দম কোথা থেকে আসে, জানতে চাইলে রাসেল বলেন, ‘মানুষের অনেক রকম কষ্ট, সবচেয়ে বড় কষ্ট খাবারের। তাই তৃপ্তি নিয়ে অভুক্ত মানুষ খাচ্ছে, এই দৃশ্য হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য। এই যে সুন্দরবনের কাছে থাকি। ট্যুরিস্ট নিয়ে বনে বেড়াতে যাই, কিন্তু এত সুন্দর দৃশ্য আর কোথাও দেখি না। অনেক পানির তৃষ্ণার পর একটু ঠান্ডা পানি পাইলে যেমন লাগে, ক্ষুধার্ত মানুষের ভাত খাওয়া দেখতে আমার তেমন লাগে। তাই কাজগুলা করি।’

রাসেল একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা ওয়াইল্ড টিমের সদস্য। এটি বন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক টিম। বন বিভাগের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের হয়ে কাজ করেন তিনি। রাসেল জানালেন, বেশি উদ্ধার হয় সাপ। একবার খুড়িয়াখালী গ্রামে হরিণ ঢুকে পড়েছিল। গ্রামবাসী হরিণটা ধরতে পারলে হয়তো মেরে ফেলত। রাসেল হরিণকে উদ্ধার করে নিয়ে যান নদীর দিকে। বলেশ্বর-ভারানি (দুই নদীর মাঝের সংযোগ স্থান) পার করে সেটা ছেড়ে দিয়ে আসেন সুন্দরবনে। একবার গোখরো সাপ পাওয়া গেল সাউথখালীর তাফাল বাড়ি বাজারে। পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা সাপটি উদ্ধার করে বনে ছেড়ে এসেছেন।

Related articles

Recent articles

spot_img