5.1 C
New York

একের পর এক স্বজনের হাতে কেন স্বজন খুন

Published:

গত ৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘তালাবদ্ধ ঘর থেকে শিশুর পোড়া লাশ উদ্ধার, “মাদকাসক্ত” বাবা আটক’। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে আগুনে পুড়ে যাওয়া আলিফ হোসেনের (৮) পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আর শিশুকে ঘরে রেখে আগুন দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির বাবা ইয়াসিন আলীকে আটক করে পুলিশ।

ইয়াসিন মাদকাসক্ত বলে তাঁর বাবাসহ স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। ইয়াসিনের বাবা নূর ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলের সঙ্গে রাগ করে নাতি আলিফকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন বউমা। ইয়াসিন মিথ্যা কথা বলে আলিফকে বাড়ি নিয়ে আসেন। ভোরের দিকে গায়ে কাঁথা জড়িয়ে কেরোসিন ঢেলে ছেলের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পাশে উচ্চ স্বরে গান ছেড়ে ঘরের তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান ইয়াসিন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবারের ভেতরে শিশুর সামাজিক যে বিকাশ, তা সুষম হতে হবে। শিশু যাতে অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে পারে, সেভাবে শিশুকে বড় করতে হবে। আর যে ঘটনাগুলো ঘটছে, গণমাধ্যমে তার প্রকাশ ও প্রচার অবশ্যই করতে হবে। তবে হত্যা, আত্মহত্যার মতো ঘটনার বর্ণনা গণমাধ্যমে যাতে নির্মোহ হয়, আবেগ কম থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

২ ফেব্রুয়ারি ‘বেওয়ারিশ হিসেবে শিশুর লাশ দাফনের খবরে ছুটে এলেন মা, বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা’, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ‘অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুনের মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ’, একই বছরের ৪ নভেম্বর ‘স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে’, ৮ নভেম্বর ‘থানায় গিয়ে স্বামী বললেন, স্ত্রীকে ছুরি মেরে এসেছি’, ১৫ নভেম্বর ‘বোনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, ভাই আটক’, ১৬ নভেম্বর ‘জুতা রাখা নিয়ে ঝগড়ার জেরে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা’, ২২ নভেম্বর ‘জয়পুরহাটে ছেলের কুড়ালের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার’ শিরোনামের বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) পুলিশ সুপার ইনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহের জন্য পরিবারের ভেতরে বিভিন্ন খুনের ঘটনা ঘটছে। সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে, তা বলা যাবে না।

মাঠপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সভা-সেমিনার করে জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। ঘটনা ঘটে গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related articles

Recent articles

spot_img