17.8 C
New York

একাত্তরে যেভাবে পালিত হয়েছিল রোজা

Published:

১৯৭১ সাল যেমন বাঙালির শৌর্যবীর্যের নাম, তেমনি এ বছর বাঙালি দেখেছে অনেক বিভীষিকাময় অধ্যায়ও। পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত, চারদিকে যখন বিদীর্ণ হৃদয়ের হতাশা আর নৈরাশ্যের দীর্ঘশ্বাস, সে সময় আকাশে ফুটে ওঠে পবিত্র রমজানের চাঁদ। স্বভাবতই মুসলমান সম্প্রদায় এ মাসে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে যাবতীয় পাপতাপ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। কিন্তু বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী তা করেনি। নিজেদের ‘সাচ্চা মুসলমান’ দাবি করার পরও তারা রমজান মাসে নিরীহ বাঙালিদের ওপর চালিয়েছে অকথ্য নির্যাতন, লুণ্ঠন ও হত্যাযজ্ঞ। লেখক-সাহিত্যিকদের স্মৃতিকথায় ধরা আছে একাত্তরের রোজার মাসের টুকরো টুকরো ছবি।

আমাদের কাছে আজকের বাস্তবতায় রোজা-রমজানের চিত্র যেমন, সেদিনের যুদ্ধপ্রহরে নিঃসন্দেহে তা এ রকম ছিল না। তবে যুদ্ধের ওই ডামাডোলের মধ্যেও ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমান নিজেদের ধর্মবোধ থেকে বিচ্যুত হয়নি। ফলে ১৯৭১ সালে মানুষেরা রোজা পালন করেছেন নিজস্ব বাস্তবতা মাথায় রেখে।

একাত্তরে পয়লা রমজান ছিল ২২ অক্টোবর। দেশে তখন যুদ্ধ চলছে। অনেকেই যুদ্ধে গেছেন, কেউবা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দেশের ভেতরে, নানান শহরে।

রমজানের চাঁদ দেখা গেল অন্য মুসলমানেরা যা করে, একাত্তরে মুসলমান বাঙালিরাও তা–ই করেছিল—সাহ্‌রি খেয়ে রোজা রাখার সংকল্প করেছিল। কিন্তু সময়টা তো ছিল অগ্নিঝরা, ঝঞ্ঝাসংকুল, তাই রোজাদাররা যখন সাহ্‌রি সেরে, ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনো তাঁদের কানে ভেসে আসছিল গুলির শব্দ আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতো পাকিস্তানি বাহিনী এ মাসেও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে, ভেঙেচুরে নিরীহ মানুষের বুকে সেঁটে দিচ্ছিল এক ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ। সাহিত্যিক আবুল ফজল তাঁর দুর্দিনের দিনলিপিতে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘তারা কোনো দোষ করেনি, করেনি কারও কোনো ক্ষতি। কেউ নিয়মমাফিক অফিস করে, কেউ–বা বেচাকেনা করে, কেউ হয়তো আসন্ন ঈদের সওদা করে বাড়ি ফিরছে, অনেকেই রোজাদার, অতর্কিতে তাদের ওপরই কিনা নেমে এসেছে ছোরাছুরির মুখে এক অভাবনীয় মৃত্যু। কয়েক দিন ধরে চলেছে এ পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড।’

Related articles

Recent articles

spot_img