15.5 C
New York

উড়োজাহাজে কীভাবে পাওয়া যায় গরম খাবার, ইন্টারনেট, শৌচাগারব্যবস্থা কেমন

Published:

ইন্টারনেট ব্যবহার

আকাশে ঘণ্টায় ৫০০ মাইল গতিতে ছুটে চলা উড়োজাহাজে ইন্টারনেট সংযোগ ধরে রাখাটা কি কঠিন কাজ?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ভিয়াস্যাটের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডন বুচম্যান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সহজ প্রযুক্তি। উড়োজাহাজের ওপরে একটি অ্যানটেনা লাগানো থাকবে এবং তা জিওস্টেশনারি আর্ক নামে পরিচিত উপগ্রহের দিকে তাক করা থাকবে।’

ভিয়াস্যাট কোম্পানিটি প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ফ্লাইটে সেকেন্ডে ১০০ এমবি গতিতে ওয়াইফাই সুবিধা দিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী বুচম্যানের জন্য এই প্রযুক্তি যতটা সহজ, তা আমাদের অন্য সবার কাছে ততটা সহজ নয়।

ভিয়াস্যাটের সহায়তায় যেসব উড়োজাহাজে ওয়াইফাই চালানো হয়, সেগুলো পৃথিবী থেকে ২২ হাজার মাইল ওপরে বিষুবরেখায় অবস্থিত স্যাটেলাইট থেকে এই সুবিধা পেয়ে থাকে। যে জায়গায় স্যাটেলাইটগুলো থাকে, তাকে জিওস্টেশনারি আর্ক কিংবা কক্ষপথ নামে ডাকা হয়। সেখানে স্যাটেলাইট স্থাপন করতে ৩০ দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ভিয়াস্যাটের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডন বুচম্যান বলেন, একবার যদি স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়ে যায়, তখন এটা সাধারণ বিষয় হয়ে যায়। ওই উচ্চতায় স্থাপিত এক একটি স্যাটেলাইট দিয়ে পৃথিবীর তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ সামলানো যায়। এর মানে পুরো বিশ্বে উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের জন্য তিনটি স্যাটেলাইটকে সক্রিয় রাখতে হবে। আর ভিয়াস্যাটের এমন স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১৮।

একেকটি স্যাটেলাইটের আওতায় বিশাল এলাকা থাকায় উড়োজাহাজ চলার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হয় না।

উদাহরণ দিতে গিয়ে বুচম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তঃমহাদেশীয় ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো কোনো উড়োজাহাজকে উত্তর আমেরিকার কাছাকাছি স্থাপিত পাঁচটি ভিয়াস্যাট স্যাটেলাইটের সব কটি ব্যবহার করতে হয়। আবার কখনো কখনো একটি ব্যবহার করলেই হয়।

একটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে অ্যানটেনার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আরেকটি স্যাটেলাইটে যুক্ত হওয়ার সময়টা যাত্রীরা টের পান না বললেই চলে। তাঁরা নির্বিঘ্নে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। বুচম্যানের মতে, যদি বিঘ্ন ঘটেও তা সর্বোচ্চ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে।

কারিগরিভাবে উড়োজাহাজের ভেতরে ইন্টারনেটের গতি সেকেন্ডে ১০০ এমবির বেশি হতে পারে। তবে যাত্রীরা সাধারণত সেকেন্ডে ২০ থেকে ৪০ এমবি গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। আর তা যাত্রীদের আলাদা নেটফ্লিক্স ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট।

Related articles

Recent articles

spot_img