9.2 C
New York

ঈদে শ্বশুরবাড়ি, নাকি মা–বাবার বাড়ি

Published:

২.
শুরু করব সমাজের উচ্চশিক্ষিত, সচ্ছল পরিবারের গল্প দিয়ে। চট্টগ্রামের মেয়ে জেরিন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। উচ্চশিক্ষিত, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন, তাঁর মা শ্বশুরবাড়ি ঈদ করছেন। মায়ের সঙ্গে দাদিরও চমৎকার সম্পর্ক দেখেছেন। চাচাতো ভাইবোনেরা মিলে আনন্দের সঙ্গে দাদাবাড়িতে ঈদ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই নিজের বিয়ের পর তাঁরও ঈদ নিয়ে একই ধরনের প্রত্যাশা ছিল। তিনিও শ্বশুরবাড়ি ঈদ করতেন।
কিন্তু যেহেতু ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, তাই শুরু থেকেই শাশুড়ি তাঁকে মন থেকে মেনে নেননি। শাশুড়ি মনে করতেন, জেরিন তাঁর ছেলেকে কেড়ে নিয়েছেন। ফলে যখনই জেরিন শ্বশুরবাড়ি যেতেন, বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তেন। বিশেষ করে ঈদের সময় কিছু রান্না করলে ইচ্ছাকৃতভাবে সেটি নষ্ট করে দেওয়া হতো। তিনি ফ্রিজে কোনো খাবার রাখলে, সেটি বাইরে বের করে রাখা হতো, যেন নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্নভাবে তাঁকে বোঝানো হতো যে তিনি এই পরিবারের কেউ নন। এমনকি সন্তান জন্মের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি।
জেরিন আরও বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ি ঈদ করা ছিল আমার ও আমার সন্তানের জন্য রীতিমতো আতঙ্কের। সেখানে আমরা ছিলাম অনাহূত। এরপর আমি দেশের বাইরে পড়তে যাই এবং একদম একা ঈদ করি। কেবল বন্ধুরা পাশে ছিল। সে সময় মনে হয়, কেন প্রতিবছর শ্বশুরবাড়ি ঈদ করে স্বেচ্ছায় যন্ত্রণা ভোগ করি? কেন বাবার মৃত্যুর পর মাকে একা ফেলে রাখি?’
এরপরই জেরিন সিদ্ধান্ত নেন, অনেক হয়েছে, তিনি আর কষ্ট ভোগ করতে যাবেন না। স্বামীর সঙ্গে বোঝাপড়া সেরে নিয়েছেন। যে যাঁর মায়ের কাছে ঈদ করেন। একবেলা হয়তো গিয়ে দেখা করে আসেন শাশুড়ির সঙ্গে। শাশুড়িও তাঁর ছেলেকে পেয়ে খুশি, জেরিনও মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে পেরে খুশি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিতে বেশ কয়টা বছর লেগেছে।

Related articles

Recent articles

spot_img