14.9 C
New York

আমাদের ‘টাকা তোলা’ এমপি ও  ভারতের ‘গরিব’ অর্থমন্ত্রী 

Published:

নবম সংসদে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ‘৩১৫ জন এমপিকে শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা দেওয়ায় সরকারকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার কর রেয়াত দিতে হয়েছে। দুই শতাধিক এমপি টয়োটা, ল্যান্ডক্রুজার, প্রাডো অথবা স্টেশনওয়াগন কিনেছেন। ১৮ জন সংসদ সদস্য কিনেছেন ভক্সওয়াগন টুরেজ। বাকিরা অন্যান্য মডেলের গাড়ি কিনেছেন; বেশির ভাগ সদস্য ২ থেকে ৪ কোটি টাকার কর রেয়াত পেয়েছেন। বেশ কয়েকজন এমপির পাওনা কর রেয়াতের পরিমাণ ৬ কোটি টাকার বেশি।’(প্রথম আলো, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)

দু–একজন ব্যতিক্রম বাদে দশম ও একাদশ সংসদে নির্বাচিত সদস্যরাও শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা নিয়েছেন। এর পাশাপাশি আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ ও করপোরেট মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের খবরটি মিলিয়ে নিতে পারি। আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে যে মনোনয়ন দিয়েছিল, সেটা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নির্মলা বলেছেন, ভোটে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ তাঁর নেই। (আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৯ মার্চ ২০২৪)

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের একজন সদস্য যখন ভোটে জেতার পর তাঁর নির্বাচনী খরচ তোলার জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, টাকা নেই বলে তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না। ভারতের জনপ্রতিনিধিরা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা পান না। আমাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের জনপ্রতিনিধিদের এটাই পার্থক্য।

সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি

[email protected]

Related articles

Recent articles

spot_img