2 C
New York

আমাকে বাসায় ডেকে সবার সামনে প্রেমপত্রটা পড়া শুরু করে দিল

Published:

আমি খুব লাজুক প্রকৃতির ছিলাম। লজ্জা আর কেমন যেন একটা অস্বস্তিবোধ হতো বলে কোনো দিন ইরার চোখের দিকে তাকাতে পারিনি। এই যে আমার প্রেমপত্র ইরা পাঠ করল, লজ্জায় সেই প্রেমপত্র আমি লিখিনি, লিখেছিল আমার খুব কাছের এক বন্ধু মিসটিয়া।

সেদিন ইরা চিঠি পাঠ করে খুব ঠান্ডা মাথায় আমাকে আসন্ন পরীক্ষায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দিল। কিন্তু তার সুপরামর্শে কাজ হলো না। প্রেমহীন জীবনে আমি রসায়নে ফেল করে বসলাম।

আমাদের বাসা ছিল কলেজের ঠিক পেছনে। ক্লাস শেষে ইরা আমাদের বাসায় সামনের দিয়েই ওদের বাসায় যেত। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম কখন ওকে একটু দেখব। বাঁকটুকু পাড়ি দিতে ওর বড়জোর ৩০ সেকেন্ড লাগত। ওই ৩০ সেকেন্ড আমি শুধু দূর থেকে চোখের পলক পড়ার স্মৃতিটুকু বুকের বাঁ পাশে জমা করতাম।

স্পার্টানবার্গের যে বাসায় এখন থাকি, সেই বাসার সামনেও আমাদের কলেজের পেছনের বাসাটার মতো ছোট একটা পথের বাঁক আছে। প্রায়ই বিকেলে ধূমায়িত এক কাপ চা নিয়ে বাসার সামনে লনের পাশে দোলনায় বসি। বুকের কোথাও একটা ব্যথা চিন চিন করে। পথের বাঁকটাতে তাকাতে তাকাতে দুচোখে ক্লান্তি চলে আসে কিন্তু ইরা আর আসে না। আসবেই–বা কীভাবে, আমাদের দূরত্ব যে সাত সমুদ্র তেরো নদী!

আজ বিকেল থেকে তুষার ঝরতে শুরু করেছে। শুভ্র তুষার হাতে ধরলেই গলে যাচ্ছে। আহা, তুষার গলার মতো ইরার মনটা যদি এভাবে আমার জন্য গলে যেত! না, তাই হয় নাকি! সময়ের ব্যবধানে একতরফা বন্ধুত্ব বদলে গেছে যুগপৎ বন্ধুত্বে। আমার যে এখন সত্যিকারের সেই বন্ধু, যা বাল্যকালেই ইরা চেয়েছিল। ইরার ছোট্ট একটা সংসার আছে। আমিও দেবদাস হয়ে যাইনি। আমার সংসারেও মুঠোভরা ভালোবাসা আছে। বন্ধুত্ব যেমন শুধু একজনের জন্য নয়, তেমনি ভালোবাসাও সময়ের স্রোতে এক জায়গায় স্থির থাকে না। সেই ভালোবাসার গল্প নাহয় অন্য কোনো সময়।

Related articles

Recent articles

spot_img