12.4 C
New York

‘আমরা হোঁচট খাই, কিন্তু ভেঙে পড়ি না’

Published:

আরেক দুর্ঘটনা

রওনক জানালেন, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর মেজ বোন ছাদ থেকে পড়ে স্পাইনাল কর্ডে ব্যথা পান। তাঁর পুরো শরীর অবশ হয়ে যায়। তাঁকে সিআরপিতে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি ও তাঁর মা ভাগাভাগি করে সিআরপিতে থাকতেন। অক্টোবরে ঘটে তাঁর জীবনে দুর্ঘটনা।

রওনক আরও বলেন, একপর্যায়ে সিআরপিতে তাঁরা দুই বোন পাশাপাশি বিছানায় থাকতেন। মা তাঁদের সেবা করতেন। একজন মা কেবল বলতে পারবেন, তাঁর জন্য এমন মুহূর্ত কতটা কষ্টের, কতটা মর্মান্তিক, কতটা বেদনাদায়ক। ২০১২ সালে তাঁর বোন মারা যান।

চিকিৎসা শেষে সিআরপির মাধ্যমে রওনক ইডেন মহিলা কলেজের হোস্টেলে ওঠেন।

ভালো থাকার জন্য দরকার চাকরি-ব্যবসা

মুঠোফোনে কথা হলো রবিউলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

নিজে হুইলচেয়ার ব্যবহার না করলে রওনককে বিয়ে করতেন কি না, জানতে চাইলে রবিউল বলেন, ‘এটা কঠিন প্রশ্ন। সেভাবে চিন্তা করেননি।’

হাসতে হাসতে রবিউল বলেন, রওনকের হাসি দেখার পর তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন বলে পিছিয়ে আসার আর সুযোগ ছিল না বলেই তাঁর মনে হয়।

রওনক ও রবিউল দুজনই জানালেন, এখন তাঁরা ভালো আছেন। তবে নিজেরাই যখন নিজেদের খরচ চালাতে পারবেন, মা–বাবার দেখাশোনা করতে পারবেন, তখন আরও ভালো থাকা সম্ভব হবে। সে জন্য দরকার চাকরি বা ব্যবসা করা।

রওনক বলেন, জেলা শহরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশগম্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঘুরে ঘুরে চাকরির খোঁজ করা বেশ কষ্টকর। তবে কখনো আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারলে এই দম্পতি অন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।

রওনক ফেসবুকে স্বামী-স্ত্রীর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমরা হোঁচট খাই, কিন্তু ভেঙে পড়ি না। কারণ, স্বপ্নবাজেরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে থামে না।’

Related articles

Recent articles

spot_img