1.7 C
New York

আওয়ামী লীগের চমক ও নৌকার নয়া যাত্রী

Published:

ককটেল বিস্ফোরণ, বোমা হামলা ও পরিবহনে আগুন দেওয়া ইত্যাদি বাংলাদেশের রাজনীতির অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের এসবের অভিযোগ আমরা নিয়মিতই দেখছি। তাই বলে সরকারি দলও পিছিয়ে থাকবে কেন? সম্প্রতি ভোলার লালমোহনে এক ছাত্রলীগ নেতার বাসায় ‘বোমা বানাতে গিয়ে’ বিস্ফোরণে ‘কারিগর’ নিহত হন। এ রকম আর কত কারিগর আছে দেশে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। 

বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের নড়িয়ায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যকার সংঘাতে। এতে দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছে। কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া যায়নি। 

শরীয়তপুর-২ আসনে (নড়িয়া-সখীপুর) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের বরাতে জানা যাচ্ছে, দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ালে উভয় পক্ষই এ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বিএনপিবিহীন নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক দেখাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহিত করছেন। তাঁরা বলেছেন, বিনা ভোটে জয়ী হওয়া যাবে না। এখন দেখা যাচ্ছে ভোটের আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে অন্য ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপির হরতাল বা অবরোধ কর্মসূচির সময় কোথাও ককটেল ফাটলে সরকার একে সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং পুলিশ বাড়ি বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে থাকে। কিন্তু একটি নির্বাচনী এলাকায় যখন নৌকা ও দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, তখন তারা কী করবে? আক্রান্ত ও আক্রমণকারী একই দলের। কাকে ধরবে? বিএনপি ককটেল ফাটালে যদি সেটা সন্ত্রাসের প্রতীক হয়, আওয়ামী লীগ ঘটালে তা শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক হয়ে যায় না। 

Related articles

Recent articles

spot_img