8.8 C
New York

আইপিএল: ক্রিকেট নাকি ক্রিকেট নয়

Published:

টেস্টের ফাইনালে শেষ দিনে অধিনায়ক রোহিত ও কোহলি যেভাবে আউট হয়েছিলেন, সেটিতে অনেকেই আইপিএলের প্রভাব দেখেছিলেন। ফাইনাল চলার সময়ই সাবেক কোচ ও ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী বিসিসিআইকে জাতীয় দল ও আইপিএলের মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসকে কোচিং করানো রিকি পন্টিং বলেছিলেন, ভারতের খেলোয়াড়েরা আইপিএল নিয়ে ব্যস্ততার কারণেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। লিগভিত্তিক ফুটবল খেলাই যেখানে বিশ্বকাপ বা মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের সময় জাতীয় দলকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে জাতীয় দলভিত্তিক ক্রিকেটে ভারতের এমন আচরণ তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এ ক্ষেত্রে ভারতের তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকতার বিষয়ও ভাবার মতো। ভারত ২০০৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ার পর বিসিসিআইয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা রত্নাকর শেঠি জানিয়েছিলেন, কিছু তরুণ তখনই রঞ্জির চেয়ে আইপিএলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেছিলেন। ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায়ে তারা বেদনাহত হয়নি বলে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন এক সিনিয়র ক্রিকেটার। এখন ২০২৪ সালে এসে যাঁরা নতুন হিসেবে আইপিএলে ঢুকছেন, তাঁরা বেড়ে উঠেছেনই আইপিএল দেখে।

সুতরাং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার তরুণদের চোখে আইপিএল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের হয়ে কিছু অর্জনের ক্ষুধাও তাই কারও কারও কাছে তুলনামূলক কমই মনে হওয়ার কথা।

ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবী রমাচান্দ্র গুহর চোখে আইপিএল পুঁজিবাদের দোষে দুষ্ট। ২০১৩ সালে দ্য হিন্দুতে লেখা কলামে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যগুলোর কয়েকটির নামে ফ্র্যাঞ্চাইজি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ‘ইন্ডিয়ান’ই নয়।

লক্ষ্ণৌ, গুজরাটের মতো দলগুলো যুক্ত হওয়ার পর আইপিএল ‘ভারতীয়’ হয়েছে কি না, রমাচান্দ্রই ভালো বলতে পারবেন। তবে এটি ক্রিকেট কি না, সেই বিতর্ক হতেই পারে। অন্তত বিসিসিআইয়ের জাতীয় দলের স্পনসর পাওয়ার জটিলতা, কিষানদের আইপিএলকে প্রাধান্য দেওয়া, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়া মিলিয়ে এমন প্রশ্ন তোলাই যায়।

Related articles

Recent articles

spot_img