12 C
New York

অর্ধকোটি টাকার অচল এক্সরে মেশিন সচল করতে লিগ্যাল নোটিশ

Published:

বগুড়ার আড়াইশো শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের একমাত্র ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নষ্ট। অর্ধকোটি টাকা দিয়ে কেনা এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিনেও সচল না হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইন শালিস কেন্দ্র (আসক)-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও অ্যাডভোকেট মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে এক্সরে মেশিন সচল না করলে এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে। লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি সোমবার (১ এপ্রিল) জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবীরা।

লিগ্যাল নোটিশ থেকে জানা গেছে, বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের একমাত্র ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘ দিন ধরে নষ্ট। বর্তমানে ১৯৯০ সালের বসানো অ্যানালগ এক্সরে মেশিন দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সেখানে নেই কোনো সিটিস্ক্যানের যন্ত্র। চিকিৎসা নিতে আসা নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে সিটিস্ক্যান করাতে হচ্ছে। শয্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাসপাতালটিতে ইসিজি মেশিন প্রয়োজন অন্তত চারটি।

এ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, যন্ত্র ক্রয়-বিক্রয় বা মেরামতের অধিকার আমাদের নেই। কয়েক দফা কেন্দ্রীয় ওষুধাগারকে চাহিদাপত্র ও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকই; এখনো সমাধান হয়নি।

লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট আইসিয়ার ৩৬০০ মডেলের একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি সরবরাহের সাত বছর পার হলেও বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন কাজে আসছে না।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টল না করে দেওয়ায় সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরেজ ডিপো (সিএমএসডি) ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের পক্ষ বারবার যোগাযোগ করলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি চালু করার ক্ষেত্রে (ইনস্টল) কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অর্ধ কোটি টাকার এই এক্সরে মেশিনটি হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে পড়ে আছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের রেডিওলেজির টেকনিশিয়ান জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতের বেলায় মেশিনটি ট্রাকযোগে হাসপাতালে দিয়ে তারা চলে যায়। পরে এর ডিজিটাল ইউনিট কম্পিউটার রেডিওগ্রাফি (সিআর) ইউনিটটি সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন পরে থাকার পরেও এটি ইনস্টল করে দেওয়া হয়নি।

হাসপাতালটির আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি তাদের ইনস্টল করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এটি চালু দেখে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ঠ বোর্ড প্রত্যায়ন দেবে। কিন্তু এরকম কোনো প্রত্যায়ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। প্রথমে এটির সফটওয়ার সমস্যার কথা বলা হলেও পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভিন্ন মন্তব্য করেছে।

সূত্র জানায়, হাসপাতাল থেকে এক্সরে করতে রোগীদের যেখানে ব্যয় হয় মাত্র ২০০ টাকা সেখানে বাইরে থেকে এক্সরে করতে রোগীদের ব্যয় হচ্ছে ৮০০ টাকা। যে কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার খরচও বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে বর্তমানে এনালগ পদ্ধতির এক্সরে করা হচ্ছে। প্রয়োজনের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্সরে করে হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখাতে হচ্ছে। এনালগ পদ্ধতির কারণে বর্তমানে ৫০/৬০টি এক্সরে হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান চঞ্চল জানান, ডিজিটাল এক্সরে চালু থাকলে হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন অন্তত দুইশোর বেশি রোগীর এক্সরে হতো। সাধারণ রোগীদের স্বার্থে হাসপাতালের ডিজিটাল এক্সরে ইউনিট দ্রুত চালু হওয়া প্রয়োজন।

এফএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img