22 C
New York

অথচ আমাদের জীবন থেকেই ঈদের আনন্দ চলে গেল

Published:

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। তখন আমি উচ্চমাধ্যমিকে পড়ি। সেদিন কি যেন একটা অনুষ্ঠান ছিল। ও হ্যাঁ, নতুন অধ্যক্ষকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আমরা কয়েকজন সহপাঠী সেখানে না গিয়ে কলেজের মাঠেই ঘোরাফেরা করছিলাম। এক শিক্ষকের কাছে ধরা পড়ার পর সবার বাবার ফোন নম্বর দিতে বললেন। বললেন, সবার নামে বিচার যাবে। সংগত কারণে সবাই ভয়ও পেল। আমি পাপাকে ঘটনা খুলে বললাম। তিনি শুধু জানতে চাইলেন, কলেজের বাইরে গিয়েছি কি না। এরপর পাপা সেই শিক্ষককে ফোন করে বলেছিলেন, ‘স্যার, এ রকম দুষ্টুমি আপনি আমি সবাই করেছি। বুকে হাত রেখে বলেন তো, ছাত্রজীবনে কখনোই ক্লাস মিস হয়নি কিংবা দুষ্টুমি করেননি। ওরা তো ক্লাস ফাঁকি দেয়নি। কলেজের বাইরেও যায়নি। আর ও রকম অনুষ্ঠানে বসে ভাষণ শুনতে কজনেরই বা ভালো লাগে?’ অভিভাবকের মুখে এসব শুনে স্যার অনেকটাই অবাক হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের দিন একে একে সবাইকে মঞ্চে ডাকা হচ্ছিল। আমি মঞ্চ থেকেই তাকিয়ে দেখলাম, ছলছল চোখে ভিডিও করছেন বাবা। নিচে এসে বললাম, ‘ধুর, ইমোশনাল হচ্ছো কেন? এটা তো সবাইকেই দিচ্ছে।’ পাপা খুব গর্বিত হয়ে জানান, ‘মেয়েকে এভাবে দেখাটাও তো স্বপ্নের মতো। তা ছাড়া সমাবর্তনের পরদিনই কতজনইবা চাকরিতে যোগ দিতে পারে?’ আমি তো আরও অনেক বড় হয়ে অনেকভাবে তোমাকে গর্বিত করতে চেয়েছিলাম, পাপা।

গত বছর ঈদের দিন আমার ডিউটি পড়ল। পাপা একটু অভিমান করেই বললেন, ‘এত ছোট বয়সেই আমার মেয়েটা দায়িত্ব নেওয়া শিখছে। মানুষের সেবা করছ, ঠিক আছে; কিন্তু বাসায় কোরবানি হবে, আয়োজন হবে, তোমাকে ছাড়া আমরা বুড়া–বুড়ি একা একা কী ঈদ করব?’ অথচ আমাদের জীবন থেকেই ঈদের আনন্দ চলে গেল। আমরা মা-মেয়ে হাসতে ভুলে গেলাম। মাকে দেখে রাখার এত বড় দায়িত্বও আজ আমার কাঁধে। ছোট্ট পৃথিবীতে তাঁরও আমি ছাড়া আর কেউ নাই…

Related articles

Recent articles

spot_img